ইউরোপে গ্যাস বন্ধ করে এশিয়ায় পাইপলাইন ঘোরানোর পরিকল্পনা পুতিনের

মস্কো: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে তেল-গ্যাসের দাম উর্ধমুখী। (Putin)এই আবহেই বড় মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, রাশিয়া এখনই ইউরোপের কাছে গ্যাস সরবরাহ ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
putin-plan-stop-gas-europe-divert-asia-pipeline

মস্কো: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে তেল-গ্যাসের দাম উর্ধমুখী। (Putin)এই আবহেই বড় মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, রাশিয়া এখনই ইউরোপের কাছে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে এবং সেই গ্যাস এশিয়ার দিকে ঘুরিয়ে দিতে প্রস্তুত। পুতিনের কথায়, নতুন ক্রেতারা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তারা বেশি দামে গ্যাস কিনতে প্রস্তুত।

এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী তেল রফতানির জন্য বন্ধ। রাশিয়া এবং চীনের তেল ট্যাংকার ছাড়া অন্য দেশের তেল ট্যাংকার হরমুজ প্রণালীতে ঢোকা বন্ধ। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একটি সাক্ষাৎকারে পুতিনের এই মন্তব্য যথেষ্ট আলোড়ন তৈরী করেছে। তিনি বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তো ২০২৭ সালের মধ্যে রাশিয়ান গ্যাস ও এলএনজি-র ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পরিকল্পনা করেছে।

   

আরও দেখুনঃ যুদ্ধ আবহে কড়া পদক্ষেপ! রান্নার গ্যাস বুকিংয়ের নিয়ম বদলাল কেন্দ্র

তাহলে কেন রাশিয়া অপেক্ষা করবে? কেন এখনই ইউরোপে সাপ্লাই বন্ধ করে এশিয়ার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া যাবে না, যেখানে চাহিদা বাড়ছে এবং দামও বেশি পাওয়া যাচ্ছে? পুতিন সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন এই বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে। ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার আলেকজান্ডার নোভাকও বলেছেন, ইতিমধ্যে কয়েকটা এলএনজি ট্যাঙ্কার মাঝপথে ঘুরিয়ে এশিয়ার দিকে পাঠানো হয়েছে চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইনসের মতো দেশগুলো বেশি স্পট প্রাইস দিচ্ছে।

এই পুরো ঘটনার পেছনে রয়েছে ইরান সংকট। আমেরিকা-ইজরায়েলের আক্রমণে ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, স্ট্রেইট অফ হরমুজ দিয়ে তেল-গ্যাসের চলাচল প্রায় বন্ধ। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৯ ডলার ছাড়িয়েছে, গ্যাসের দামও লাফিয়ে উঠেছে। ইউরোপ, যারা ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ান গ্যাস কমিয়ে এনেছে, এখন আবার চাপে পড়েছে। তারা এলএনজি আমদানি বাড়িয়েছে আমেরিকা, কাতার থেকে, কিন্তু এখন মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে সেগুলোও ঝুঁকিতে।

পুতিন বলছেন, ইউরোপ নিজেরাই রাশিয়ান গ্যাস ছেড়েছে, তাই রাশিয়াও অপেক্ষা করবে না এখনই ‘রিলায়েবল পার্টনার’দের দিকে যাবে। কূটনীতিকদের মতে ইউরোপের জন্য এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। শীতকাল এগিয়ে আসছে, গ্যাসের স্টক বাড়ানো দরকার, কিন্তু দাম বেড়ে গেলে গড় পরিবারের বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল কয়েকশো ডলার বেড়ে যেতে পারে। অনেকে বলছেন, এটা পুতিনের ‘এনার্জি ব্ল্যাকমেল’।

কিন্তু রাশিয়ার দিক থেকে দেখলে এটা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত। ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপ রাশিয়ান তেল-গ্যাসে ছাড় দিয়েছে, রাশিয়া তাই চীন-ভারতের মতো দেশে ডিসকাউন্টে বিক্রি করেছে। এখন সুযোগ এসেছে উচ্চ দামে বিক্রির। পুতিন বলেছেন, যদি ইউরোপ ফিরে আসতে চায় দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে, তাহলে রাশিয়া প্রস্তুত কিন্তু সেটা ‘স্টেবল’ ও ‘নন-পলিটিক্যাল’ হতে হবে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.