নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়েই পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি (LPG)-র মতো জ্বালানি নিয়ে ঘোর সংকট তৈরি হয়েছে। ভারতে এখনও পেট্রোল-ডিজেলের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রভাব না পড়লেও, রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে সোমবার রাতে গ্যাস সিলিন্ডার বুকিংয়ের নিয়মে আরও কড়াকড়ি করল পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক।
বুকিংয়ের সময়সীমায় বড়সড় রদবদল
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবার থেকে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বুক করার পর পরবর্তী সিলিন্ডারের জন্য গ্রাহকদের অন্তত ২৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। অর্থাৎ, দুটি বুকিংয়ের মাঝে ২৫ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন সময়সীমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর আগে এই সময়সীমা ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ২১ দিন করেছিল সরকার। চলতি মাসের শুরুতেই একধাক্কায় রান্নার গ্যাসের দাম সিলিন্ডার প্রতি ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।
কেন এই আচমকা কড়াকড়ি? India LPG Cylinder Booking Rule
সরকারি সূত্রের দাবি, যুদ্ধের খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া অহেতুক আতঙ্ক বা ‘প্যানিক বায়িং’-ই এর মূল কারণ। দেখা যাচ্ছে, যে সমস্ত গ্রাহক আগে দেড় বা দু’মাস অন্তর গ্যাস বুক করতেন, তাঁরাও আতঙ্কে পড়ে ১৫ দিন অন্তর সিলিন্ডার বুক করা শুরু করেছেন। এর ফলে বাজারে কৃত্রিম আকাল এবং কালোবাজারির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল। এই প্রবণতা রুখতেই বুকিংয়ের নিয়মে এই রাশ টানা হয়েছে।
সংকট মেটাতে কী পদক্ষেপ কেন্দ্রের?
দেশে এলপিজি-র কোনও অভাব বা সংকট নেই বলে ফের একবার দাবি করেছে কেন্দ্র। তবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷
দেশের ভেতরেই এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। পাশাপাশি, এই অতিরিক্ত উৎপাদিত গ্যাস যাতে সবার আগে গার্হস্থ্য বা সাধারণ গৃহস্থের কাজেই ব্যবহার করা হয়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, কোনওভাবেই যাতে দেশে গ্যাসের আকাল না দেখা দেয়, তার জন্য আগেভাগেই আলজিরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং নরওয়ের মতো দেশগুলির থেকে এলপিজি আমদানির বিষয়ে কথাবার্তা শুরু করেছে সরকার। যদিও সরকারিভাবে এখনও এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।



















