তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগুন এখন উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল পরিকাঠামোতেও ছড়িয়ে পড়েছে (BAPCO Sitra)। সোমবার ভোররাতে ইরানি ড্রোন (সম্ভবত শাহেদ টাইপ) হামলায় বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি BAPCO Energies-এর সিত্রা রিফাইনারিতে আঘাত হানে। এই রিফাইনারি দেশের একমাত্র বড় শোধনাগার, দৈনিক ৪০৫,০০০ ব্যারেল ক্ষমতাসম্পন্ন। হামলার পরপরই ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়, আগুন লেগে যায় একাধিক ইউনিটে।
স্থানীয় সরকার জানিয়েছে, সিত্রা এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি ও আহত হয়েছে কয়েকজন। কয়েকটি সূত্রে বলা হয়েছে, অন্তত ৩২ জন বেসামরিক নাগরিক আহত, যাদের মধ্যে মহিলা ও শিশুরাও রয়েছে।BAPCO Energies দ্রুত এক বিবৃতিতে ফোর্স ম্যাজিওর ঘোষণা করে। এর অর্থ, চলতে থাকা মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত এবং রিফাইনারিতে সরাসরি হামলার কারণে তারা চুক্তিবদ্ধ সরবরাহ পালন করতে পারবে না। কোম্পানি বলেছে, “আমাদের গ্রুপ অপারেশনগুলো প্রভাবিত হয়েছে।”
আরও দেখুনঃ 6000mAh ব্যাটারি এবং 50MP ক্যামেরা সহ আসছে স্যামসাংয়ের নতুন ফোন
এর ফলে তেলের রফতানি ও শিপমেন্ট স্থগিত। স্থানীয় সরবরাহ নিরাপদ থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব পড়েছে। কাতার ও কুয়েতের পর বাহরাইনও এই পদক্ষেপ নিল উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলা এখন একের পর এক তেল সুবিধায় পৌঁছছে।ইরানের এই হামলা মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে ইরানের নিউক্লিয়ার সাইট, মিসাইল বেস এবং সামরিক নেতৃত্বের উপর ব্যাপক হামলা হয়েছে।
ইরান প্রতিশোধ নিচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল পরিকাঠামোকে টার্গেট করে। সৌদি আরামকো, কুয়েত, কাতারের পর বাহরাইনের BAPCOএই হামলাগুলো বিশ্বের তেল সরবরাহ চেইনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। বাহরাইনে মার্কিন নৌঘাঁটি রয়েছে, যা ইরানের চোখে ‘শত্রু’। হামলা সিত্রা দ্বীপে, যেখানে রিফাইনারি অবস্থিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আকাশে ড্রোন দেখা গেছে, তারপর বিস্ফোরণ।
ফায়ার সার্ভিস দ্রুত কাজ শুরু করেছে, কিন্তু ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি।তেলের বাজারে তোলপাড়। হামলার খবর ছড়াতেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৭ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, কোথাও কোথাও ১১৫ ডলারের কাছাকাছি। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই হামলা চলতে থাকে, তাহলে তেলের দাম আরও বাড়বে, বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা নেমে আসতে পারে। বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফা এই হামলাকে ‘অভূতপূর্ব’ ও ‘অযৌক্তিক’ বলে নিন্দা করেছেন। দেশটি ইতিমধ্যে কয়েকটি মিসাইল ও ড্রোন ইন্টারসেপ্ট করেছে। কিন্তু ইরানের প্রক্সি গ্রুপ বা সরাসরি হামলা থামছে না।



















