ওয়াশিংটন: আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতর (Iran Drone Attack) ইরানি ড্রোন হামলায় নিহত চারজন মার্কিন সেনা সদস্যের ছবি প্রকাশ করেছে। এই হামলায় কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে মোট ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সকালে, যখন একটি শাহেদ-১৩৬ ধরনের একমুখী ‘কামিকাজে’ ইরানি ড্রোন কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে অবস্থিত একটি অস্থায়ী ট্যাকটিক্যাল অপারেশন সেন্টারে আঘাত হানে।
এই সেন্টারটি একটি সিভিলিয়ান বন্দরের মাঝখানে অবস্থিত ছিল, মূল আমেরিকান সেনা ঘাঁটি থেকে অনেক দূরে। হামলার সময় কোনো সতর্কতা সাইরেন বাজেনি, কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি আক্রমণটি এতটাই দ্রুত ও আকস্মিক ছিল যে সেনারা বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ পাননি। পেন্টাগন মঙ্গলবার চারজন নিহত সেনার নাম ও ছবি প্রকাশ করে। তারা সবাই ইউএস আর্মি রিজার্ভের সদস্য ছিলেন এবং লজিস্টিক্স ইউনিটে কাজ করতেন।
আরও দেখুন: মহার্ঘ হতে চলেছে রান্নার গ্যাস? ভারতে একধাক্কায় ৪০% গ্যাস সরবরাহ কমাল কাতার
তাদের নাম: ক্যাপ্টেন কোডি এ. খোর্ক (৩৫), ফ্লোরিডার উইন্টার হ্যাভেনের বাসিন্দা; সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস নোয়াহ এল. টিয়েটজেন্স (৪২), নেব্রাস্কার বেলভিউ থেকে; সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস নিকোল এম. অ্যামর (৩৯), মিনেসোটার হোয়াইট বিয়ার লেকের বাসিন্দা; এবং সার্জেন্ট ডেক্লান জে. কোয়াডি (২০), আইওয়ার ওয়েস্ট ডেস ময়েনসের বাসিন্দা। এই চারজনই ১০৩তম সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের অধীনে ছিলেন, যা ডেস ময়েনস, আইওয়ায় অবস্থিত।
তারা সেনাদের খাদ্য, সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন। বাকি দুজনের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি, কারণ তাদের পরিবারকে এখনও জানানো হয়নি। আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হওয়ার মাত্র একদিন পর এই হামলা হয়েছিল বলেই জানা যাচ্ছে। শনিবার থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা শুরু হয়, যার জবাবে ইরান ইসরায়েল ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলিতে।
যেখানে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালায়। কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে এই অস্থায়ী কমান্ড সেন্টারটি একটি ট্রিপল-ওয়াইড ট্রেলারে স্থাপিত ছিল, যা অফিস স্পেস হিসেবে ব্যবহার হচ্ছিল। হামলার পর ভবনের ভিতর কালো হয়ে গিয়েছিল, দেয়াল বাইরের দিকে ফেটে গিয়েছিল, আগুন জ্বলছিল। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম একটি প্রজেক্টাইলকে আটকাতে ব্যর্থ হয়েছে।
এই ঘটনা মার্কিন সেনাবাহিনীর মধ্যে বিতর্ক তৈরি করেছে। কেন একটি সিভিলিয়ান বন্দরে অস্থায়ী, কম সুরক্ষিত অফিস স্পেস ব্যবহার করা হল? কেন আরও মজবুত ফোর্টিফিকেশন বা মূল ঘাঁটিতে স্থানান্তর করা হল না? এসব প্রশ্ন উঠছে। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেছেন, সেন্টারটি ফোর্টিফাইড ছিল, কিন্তু একটি প্রজেক্টাইল ঢুকে পড়েছে। সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রথমে তিনজন নিহতের কথা বললেও পরে মৃতের সংখ্যা ছয়ে পৌঁছায় একজন আহত অবস্থায় মারা যান এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দুজনের দেহ উদ্ধার হয়।



















