কলকাতা: ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের মাঝেই সামনে এল অভাবনীয় দুর্ঘটনার খবর৷ প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, কুয়েতের একটি F/A-18 হর্নেট (F/A-18 Hornet) যুদ্ধবিমান ভুলবশত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি F-15E স্ট্রাইক ঈগল (F-15E Strike Eagle) ফাইটার জেটকে গুলি করে নামিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে সংঘাতের তৃতীয় দিনে। ওই সময় ইরান পাল্টা আক্রমণ হিসেবে কুয়েত এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে একের পর এক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছিল।
কীভাবে ভূপাতিত হল মার্কিন যুদ্ধবিমান?
এক মার্কিন আধিকারিকের মতে, কুয়েতি যুদ্ধবিমানের পাইলট ভুল করে তিনটি মিসাইল নিক্ষেপ করেন, যার জেরে কুয়েতের আকাশেই মার্কিন জেটগুলি ধ্বংস হয়। তবে স্বস্তির খবর হল, তিনটি যুদ্ধবিমানের পাইলট এবং অন্যান্য ক্রু সদস্যরা নিজেদের নিরাপদে বার করে আনতে সক্ষম হন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, একটি মার্কিন F-15 জেট লেজে আগুন লাগা অবস্থায় ঘুরপাক খেতে খেতে তীব্র বেগে নীচের দিকে আছড়ে পড়ছে৷ ওই বিমান থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে কালো ধোঁয়া বেরোচ্ছে।
সেন্ট্রাল কম্যান্ড প্রথমে জানিয়েছিল যে, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলেই এই বিপত্তি ঘটেছে। অন্যদিকে, রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এর আগে দাবি করেছিল যে তারাই কুয়েতে মার্কিন বিমানটিতে হামলা চালিয়েছে। ফলে পুরো ঘটনার আসল প্রেক্ষিত নিয়ে এখনও কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে।
হতবাক বিমান বিশেষজ্ঞরা Kuwait F/A-18 shoots down US F-15E
এই ঘটনা সামরিক ও বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের রীতিমতো হতবাক করেছে। উল্লেখ্য, কুয়েত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান নন-ন্যাটো মিত্র দেশ। এক প্রাক্তন বায়ুসেনা পাইলট ‘এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিন’-কে জানিয়েছেন, মার্কিন পাইলটরা মিত্র বাহিনীর জন্য সর্বদা একটি ‘আইডেন্টিফিকেশন ফ্রেন্ড অর ফো’ (Identification Friend or Foe – IFF) কোড সম্প্রচার করে থাকেন, যাতে আকাশে বন্ধু ও শত্রুর মধ্যে পার্থক্য করা যায়।
ওই প্রাক্তন পাইলটের মতে, “আকাশ প্রতিরক্ষার মিশনে উড়ান ভরলে প্রথমেই ট্রান্সপন্ডার ব্যবহার করে পরিচয় যাচাই করা হয়। একটি F-15E-কে ভুল করে ইরানের যুদ্ধবিমান বলে মনে করা বেশ কঠিন ব্যাপার, বিশেষ করে যখন তারা আক্রমণাত্মক কোনও ভঙ্গিতে উড়ছিল না।”



















