ARAMCO তেল রিফাইনারিতে ইরানের ড্রোন হামলা

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় তেল শহর রাস তানুরায় অবস্থিত সৌদি আরামকোর সবচেয়ে বড় রিফাইনারিতে (drone attack)ইরানি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। সোমবার সকালে এই ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
iran-drone-attack-saudi-aramco-ras-tanura-refinery

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় তেল শহর রাস তানুরায় অবস্থিত সৌদি আরামকোর সবচেয়ে বড় রিফাইনারিতে (drone attack)ইরানি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। সোমবার সকালে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা যায়, যা ইরানের সাম্প্রতিক প্রতিশোধমূলক আক্রমণের অংশ হিসেবে মনে করছেন কূটনীতিকরা। হামলার পর রিফাইনারিতে ছোটখাটো আগুন লাগে, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

কোনো হতাহতের খবর এখনও পাওয়া যায়নি, তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রিফাইনারির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।রাস তানুরা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল রফতানি কেন্দ্র এবং আরামকোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রিফাইনারিগুলোর একটি। এখান থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াকরণ ও রফতানি করা হয়, যা বিশ্ববাজারের তেল সরবরাহের একটা বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এই হামলা শুধু সৌদি অর্থনীতির জন্যই নয়, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

   

আরও দেখুন: মধ্যপ্রাচ্যে ছড়াচ্ছে যুদ্ধ! কুয়েতে ভেঙে পড়ল মার্কিন F-15 যুদ্ধবিমান, দাবি ইরানের

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান বিভিন্ন গাল্ফ দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতেও ইরানি শাহেদ ড্রোনের আঘাত পড়েছে, যার মধ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে। রাস তানুরার এই ঘটনা সেই ধারাবাহিকতারই একটা অংশ।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে।

রিফাইনারির এলাকায় কালো ধোঁয়া উড়ছে এবং ছোট আগুনের লেলিহান শিখা। আরামকোর পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে সূত্রের খবর অনুযায়ী কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে যাতে আর কোনো ঝুঁকি না থাকে। সৌদি কর্তৃপক্ষও এখনও হামলার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করেনি, কিন্তু আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের উল্লেখ করে ইরানের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

ইরানের পক্ষ থেকে এটিকে প্রতিরক্ষামূলক বা প্রতিশোধমূলক বলে দাবি করা হতে পারে, যেমনটা তারা গাল্ফ অঞ্চলে অন্যান্য হামলার ক্ষেত্রে করে থাকে। অন্যদিকে, সৌদি আরব ও তার মিত্ররা এটিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছে। ২০১৯ সালের আবকাইক-খুরাইস হামলার পর এই ধরনের ঘটনা সৌদি আরবের তেল পরিকাঠামোর দুর্বলতাকে আবার সামনে এনেছে।

তখনও হুথি বিদ্রোহীরা দায় স্বীকার করলেও আমেরিকা ও সৌদি আরব ইরানকে দায়ী করেছিল। এবারও একই ধরনের অভিযোগ উঠছে।বিশ্বব্যাপী তেল বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তেলের দামে সামান্য উত্থান দেখা যাচ্ছে, কারণ রাস তানুরার মতো কেন্দ্র বন্ধ থাকলে সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

যদিও হামলার ক্ষয়ক্ষতি সীমিত বলে মনে হচ্ছে, তবু এই ঘটনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই ধরনের হামলাকে নিন্দা জানিয়েছে এবং সংযমের আহ্বান জানিয়েছে। তবে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে গাল্ফ দেশগুলোকে জড়িয়ে ফেলার এই প্রবণতা যুদ্ধকে আরও বড় আকার দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.