এমন মৃত্যুই চেয়েছিলেন খামেনেই ! প্রকাশ্যে বিস্ফোরক তথ্য

তেহরান: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সামনে আসছে একের পর এক নাটকীয় তথ্য (Ayatollah Ali Khamenei)। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে বারবার ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
ayatollah-ali-khamenei-refused-bunker-tehran-assassination

তেহরান: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সামনে আসছে একের পর এক নাটকীয় তথ্য (Ayatollah Ali Khamenei)। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে বারবার অন্য শহর বা বাঙ্কারে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, দেশের সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা না থাকলে তিনি নিজে বিশেষ সুবিধা নিতে চান না।

এই তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আব্দুল মাজিদ হাকিম ইলাহী তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে জানান, তেহরানে উত্তেজনা যখন দ্রুত বাড়ছিল, তখন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা খামেনিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরেননি।

   

আরও দেখুনঃ অ্যাওয়ে ম্যাচে আটকে গেল মোহনবাগান, বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র

ইলাহির বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি একবার নিরাপত্তা টিমকে প্রশ্ন করেছিলেন কেন খামেনিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না, যেহেতু তাঁর বাসভবন ও অফিসের অবস্থান সবার জানা। তখন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, খামেনি নিজেই সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, “যদি আপনারা তেহরানের ৯০ মিলিয়ন মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন, তখনই আমি আমার বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে রাজি হব।”

শুধু তাই নয়, নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁর বাসভবনের নিচে একটি বাঙ্কার তৈরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, যদি দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য বাঙ্কার তৈরি করা সম্ভব হয়, তবেই তিনি নিজের জন্য বাঙ্কার নির্মাণের অনুমতি দেবেন।

খামেনেইর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও একই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ইলাহি। পরিবারের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, খামেনি মনে করতেন একজন নেতার জীবন সাধারণ মানুষের মতোই হওয়া উচিত। তিনি নাকি বলেছিলেন, “আমি যদি নিজের জন্য আলাদা নিরাপদ জীবন বেছে নিই, তাহলে এই দেশের নেতা হিসেবে আমার অবস্থান আর সঠিক থাকবে না।”

ইলাহি আরও জানান, খামেনেই দীর্ঘদিন ধরেই শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতেন। তাঁর মতে, ইসলামি দর্শনে শহীদ হওয়া একটি সর্বোচ্চ সম্মানের বিষয়। কয়েক মাস আগেও খামেনেই নাকি বলেছিলেন যে তিনি বৃদ্ধ হয়ে গেছেন এবং স্বাভাবিক অসুখ বা দুর্ঘটনায় মারা যেতে চান না; বরং শহীদ হওয়াকেই তিনি বেশি সম্মানের বলে মনে করেন। ইরানি সূত্রের দাবি, খামেনেইর মৃত্যুকে তারা কেবল একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি হিসেবে দেখছে না। তাদের মতে, এই ঘটনা মুসলিম বিশ্বের মধ্যে নতুন ঐক্যের বার্তা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কিছু দেশের নীতির বিরুদ্ধেও প্রশ্ন তুলেছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে তাঁর সরকারি কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে যৌথ বিমান হামলা চালানো হয়। ইরানি সূত্রের দাবি, সেই হামলায় শক্তিশালী ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। এই অভিযানের জন্য আমেরিকা এবং ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তৈরি করেছে। খামেনেইর মৃত্যু শুধু ইরানের রাজনীতিতেই নয়, পুরো অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.