নয়াদিল্লি: ভারতের লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। তবে বৃহস্পতিবার তিনি লোকসভায় রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এক চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তিনি রাহুলের সাংসদ পদ খারিজের দাবি জানিয়ে একটি ‘সাবস্টানটিভ মোশন’ বা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব জমা দিয়েছেন।
নিশিকান্তের অভিযোগ
সাংসদ পদ খারিজের দাবির পাশাপাশি নিশিকান্ত দুবে দাবি করেছেন যে, রাহুল গান্ধীকে আজীবন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে নিষিদ্ধ করা হোক। অভিযোগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দুবে বলেন, “আমি একটি সাবস্টানটিভ মোশন পেশ করেছি। সেখানে উল্লেখ করেছি যে, রাহুল গান্ধী কীভাবে সোরোস ফাউন্ডেশন, ফোর্ড ফাউন্ডেশন এবং ইউএসএআইডি (USAID)-এর সাথে যুক্ত। এছাড়া থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম এবং মার্কিন সফরের সময় তিনি কীভাবে ভারত-বিরোধী শক্তির সাথে যোগাযোগ রেখেছেন, তাও তুলে ধরা হয়েছে।”
রাহুলের আক্রমণ ও Indo-US চুক্তি Rahul Gandhi substantive motion
এই ঘটনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয় বুধবার লোকসভায় রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। বাজেট অধিবেশনে অংশ নিয়ে রাহুল গান্ধী ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তিকে “পাইকারি আত্মসমর্পণ” বলে আখ্যা দেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং কৃষকদের স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া হয়েছে।
রাহুল গান্ধীর ভাষণে মার্শাল আর্টের তুলনা টেনে দাবি করেছিলেন, “প্রথমে গ্রিপ নেওয়া হয়, তারপর চোখ বন্ধ করে শ্বাসরোধ করা হয় (Chokehold) এবং শেষে প্রতিপক্ষ আত্মসমর্পণ করে।”
‘সাবস্টানটিভ মোশন’ কী?
পার্লামেন্টারি কার্যপ্রণালীতে ‘সাবস্টানটিভ মোশন’ হল একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব, যা কোনও সুনির্দিষ্ট ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য হাউসে পেশ করা হয়। এটি অনেকটা অনাস্থা প্রস্তাব বা ইমপিচমেন্টের মতো। এটি পেশ করার পর হাউসে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক হয় এবং তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।



















