তেহরান: তেহরানের রাস্তায় আজ কুদস দিবসের বিশাল মিছিল চলছিল। (drone attack)লাখ লাখ মানুষ, পুরুষ-নারী-শিশু, প্যালেস্টাইনের সমর্থনে রাস্তায় নেমে এসেছিল। ইরানের রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। হাতে হাতে ফিলিস্তিনি পতাকা, মুখে স্লোগান “মৃত্যু আমেরিকা, মৃত্যু ইজরায়েল”। এই দিনটি ইরানে প্রতি বছর পালিত হয়, যাতে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি জানানো হয়। কিন্তু আজকের কুদস দিবস ছিল ভিন্ন। চলতে থাকা যুদ্ধের মাঝে এই মিছিল যেন একটা প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
Iranian IRIB Agency: “The moment of the airstrike by the #US and Israel near the massive march of the people of #Tehran (Quds Day) in support of #Palestine. The reaction of the people is spectacular!”
— Aditya Raj Kaul (@AdityaRajKaul) March 13, 2026
হঠাৎ আকাশে গর্জন উঠল। যুদ্ধবিমানের শব্দ, তারপর বিস্ফোরণের গর্জন। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলা। বিস্ফোরণের স্থান ছিল মিছিলের খুব কাছে, এনগেলাব স্কোয়ার বা তার আশপাশের এলাকায়। ধোঁয়ার কালো মেঘ উঠল আকাশে, মাটি কেঁপে উঠল। মানুষেরা প্রথম মুহূর্তে হতবাক হয়ে গেল। কিন্তু তারপর যা ঘটল, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।ভিডিও ফুটেজে দেখা গেল, বিস্ফোরণের ঠিক পরেই মানুষেরা দৌড়াল না, পালাল না। বরং তারা আরও জোরে স্লোগান দিতে লাগল।
আরও দেখুনঃ যুদ্ধের আবহে সোনা-রুপোর দামে পতন
কেউ কেউ হাত তুলে আকাশের দিকে ইশারা করল, যেন বলছে এই হামলা আমাদের থামাতে পারবে না। একজন মহিলা, যার মাথায় হিজাব, হাতে পতাকা নিয়ে চিৎকার করে উঠলেন, “আল্লাহু আকবর!” তার পাশের লোকেরা একসঙ্গে গর্জে উঠল। শিশুরা ভয় পেয়ে মায়ের কোলে চেপে ধরল, কিন্তু বড়রা থামল না। তারা মিছিলের লাইন ধরে এগিয়ে গেল, ধোঁয়ার মাঝ দিয়ে।ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি এই মুহূর্তটিকে “স্পেকট্যাকুলার” বলে বর্ণনা করেছে।
তারা বলছে, এই হামলা ইজরায়েল ও আমেরিকার দুর্বলতা ও হতাশার প্রমাণ। কারণ তারা জনগণের উপর হামলা চালিয়েও মানুষের মনোবল ভাঙতে পারেনি। প্রেস টিভি জানিয়েছে, শার্পনেলের আঘাতে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন মিছিলের কাছে। কয়েকজন আহত হয়েছেন। কিন্তু এই ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল অদম্য। তারা থামেনি, বরং আরও উত্তেজিত হয়ে উঠেছে।এই ঘটনা চলতে থাকা ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা যুদ্ধের একটা নতুন অধ্যায়।
ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে তেহরানে বহুবার হামলা হয়েছে। কুদস ফোর্সের হেডকোয়ার্টার, তেল ডিপো, বিমানঘাঁটি সবকিছু লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। হাজার হাজার মানুষের প্রাণ গেছে, লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত। তবু আজকের এই দৃশ্য অন্যরকম। যুদ্ধ যখন রাজধানীর হৃদয়ে পৌঁছে গেছে, তখনও জনগণ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে। এটা শুধু প্যালেস্টাইনের সমর্থন নয়, নিজেদের দেশের প্রতি, নিজেদের নেতৃত্বের প্রতি একটা অটল সমর্থনের প্রকাশ।
ইজরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করছে। কিন্তু ইরানের দাবি, এগুলো সাধারণ মানুষের উপর নির্বিচারে আক্রমণ। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে, এনগেলাব স্ট্রিটে যেখানে মিছিলের প্রধান অংশ ছিল সেখানেই বিস্ফোরণ। ইজরায়েল আগেই এলাকাটির জন্য ইভ্যাকুয়েশন ওয়ার্নিং দিয়েছিল। কিন্তু মানুষ শোনেনি। তারা এসেছে, মিছিল করেছে, এবং হামলার মুখোমুখি হয়েও পিছু হটেনি।



















