ভারত নীরবে একটি অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থার (India Air Defence) পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে বলে প্রতিরক্ষা সূত্রে দাবি উঠেছে। এই দেশীয় ব্যবস্থার নাম ‘কূষা’ এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম। সাম্প্রতিক সরকারি ইঙ্গিত এবং প্রতিরক্ষা মহলের আলোচনায় স্পষ্ট, ভবিষ্যতে এটি ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষায় গেমচেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, কূষা এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে রাশিয়ার বিখ্যাত এস–৪০০ সিস্টেমের অভিজ্ঞতা ও সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখে আরও উন্নত একটি দেশীয় বিকল্প তৈরি করা যায়। কেউ কেউ মনে করছেন, সক্ষমতার নিরিখে এটি ভবিষ্যতে এস–৫০০ স্তরের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
কী এই ‘কূষা’ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম
কূষা মূলত একটি দীর্ঘ-পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (SAM) সিস্টেম। এর লক্ষ্য আকাশপথে থাকা শত্রু যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল কিংবা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে নির্ধারিত দূরত্বের অনেক আগেই ধ্বংস করা। এটি সম্পূর্ণ মোবাইল প্ল্যাটফর্মে স্থাপনযোগ্য হবে, ফলে দ্রুত স্থান বদল করে বড় এলাকা জুড়ে আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
এই প্রকল্পের নকশা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দায়িত্বে রয়েছে ডিআরডিও। উৎপাদন ও ইলেকট্রনিক সিস্টেমে অংশীদার হিসেবে যুক্ত থাকবে ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড।
তিন স্তরের প্রতিরক্ষা, তিন ধরনের মিসাইল
কূষা সিস্টেমের সবচেয়ে বড় শক্তি এর স্তরভিত্তিক প্রতিরক্ষা কাঠামো। এতে ব্যবহৃত হবে তিন ধরনের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল,
- এম–১ মিসাইল: প্রায় ১০০–১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে সক্ষম
- এম–২ মিসাইল: আনুমানিক ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত কার্যকর পাল্লা
- এম–৩ মিসাইল: প্রায় ৩৫০–৪০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম
এই তিন স্তরের কাঠামোর ফলে একই সিস্টেম থেকে স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে।
মাল্টি-রাডার আর্কিটেকচার
কূষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এর মাল্টি-রাডার ব্যবস্থা। একসঙ্গে চার ধরনের রাডার কাজ করবে,
- লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ রাডার
- মিসাইল গাইডেন্স রাডার
- টার্মিনাল ফেজ কন্ট্রোল রাডার
- কমান্ড ও কন্ট্রোল রাডার
এই সমন্বয়ের ফলে লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাকিং ও আঘাতের নির্ভুলতা অনেকটাই বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেন কূষা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
এতদিন ভারতের দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা অনেকটাই বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল ছিল। রাশিয়া থেকে এস–৪০০ কেনার জন্য প্রায় ৩৫–৪০ হাজার কোটি টাকার চুক্তি করতে হয়েছে, যার শেষ রেজিমেন্ট ২০২৬ সালের মধ্যে হাতে আসার কথা। কূষা কার্যকর হলে ভবিষ্যতে এই ধরনের আমদানি নির্ভরতা অনেকটাই কমবে। বরং ভারত নিজেই উন্নত এয়ার ডিফেন্স প্রযুক্তি রপ্তানিকারক হয়ে উঠতে পারে।
কবে সেনাবাহিনীতে যুক্ত হতে পারে
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯–৩০ সালের মধ্যে কূষা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ভারতীয় স্থলবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। পরবর্তী পর্যায়ে নৌবাহিনীর জন্য নৌ-সংস্করণ এবং বায়ুসেনার জন্য আলাদা ইন্টিগ্রেশনও বিবেচনায় রয়েছে।
কূষা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এখনও উন্নয়ন ও পরীক্ষার পর্যায়ে থাকলেও, প্রাথমিক তথ্যই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এটি ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা নীতির একটি বড় স্তম্ভ হয়ে উঠতে পারে। আকাশ প্রতিরক্ষায় ভারত ভবিষ্যতে কতটা স্বনির্ভর হবে, তার অন্যতম উত্তর হয়ে উঠতে পারে এই ‘কূষা’।




















