ব্যাংকক: থাইল্যান্ডের ফুকেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেল এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি বিমান। বুধবার দুপুরে বিমানটির ‘হার্ড ল্যান্ডিং’ বা সজোরে অবতরণের কারণে এর ল্যান্ডিং গিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনার জেরে বেশ কয়েক ঘণ্টার জন্য রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, যার ফলে ব্যাহত হয় অন্যান্য বিমান পরিষেবাও।
কী ঘটেছিল ফুকেটে?
বুধবার, ১১ মার্চ হায়দরাবাদ থেকে ফুকেটের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানটি। নির্দিষ্ট সময়ের (১১:৪০ মিনিট) কিছুটা আগেই সকাল ১১:২৪ মিনিটে সেটি ফুকেটে অবতরণ করে। প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, রানওয়েতে সজোরে ধাক্কা খেয়ে ল্যান্ড করার কারণে বিমানটির সামনের দিকের চাকা বা ‘নোজ ল্যান্ডিং গিয়ার’ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি চাকা কার্যত খুলে যায়। এর ফলে বিমানটিকে তাৎক্ষণিকভাবে রানওয়ে থেকে সরানো সম্ভব হয়নি এবং সেটি সেখানেই আটকে পড়ে।
সুরক্ষিত রয়েছেন যাত্রীরা Air India Express Phuket hard landing
দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে ৭ জন ক্রু সদস্য এবং ২ জন শিশু-সহ মোট ১৩৩ জন যাত্রী ছিলেন। স্বস্তির খবর এটাই যে, সকলকেই অত্যন্ত নিরাপদে বিমান থেকে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে এবং এই ঘটনায় কারও আহত হওয়ার কোনও খবর নেই।
কী জানাল এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস?
এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের এক মুখপাত্র ঘটনার কথা স্বীকার করে একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “আমরা নিশ্চিত করছি যে, ১১ মার্চ আমাদের হায়দরাবাদ-ফুকেট ফ্লাইটের নোজ হুইলে (সামনের চাকা) ফুকেটে অবতরণের সময় একটি সমস্যা দেখা দিয়েছিল। আমাদের ক্রু সদস্যরা সমস্ত স্ট্যান্ডার্ড প্রোটোকল অনুসরণ করেছেন এবং যাত্রীদের নিরাপদে নামানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সহযোগিতা করার জন্য আমরা যাত্রী, ফুকেট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই।”
রানওয়ে বন্ধ, ব্যাহত পরিষেবা
এই ঘটনার জেরে ফুকেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দুপুর ১২:০৮ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ বা নোটিশ (NOTAM) জারি করে। ফুকেটে অবতরণ করার কথা ছিল এমন সমস্ত ফ্লাইটকে কাছাকাছি আকাশসীমায় ‘হোল্ড’ করে রাখা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কয়েকটি বিমানকে বাধ্য হয়ে অন্য বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। বিমানবন্দর আধিকারিকরা জানিয়েছেন, রানওয়ে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটিকে সরিয়ে পুরো এলাকাটি ফের বিমান চলাচলের জন্য নিরাপদ কি না, তা খতিয়ে দেখতে অন্তত ৬ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।



















