ঢাকা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুগান্তকারী বাণিজ্যিক চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে বাংলাদেশ। এই চুক্তির ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর রফতানি শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী সোমবারই এই চুক্তিতে সই হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
১৪টি বিমান কেনার পরিকল্পনা
আমেরিকার সাথে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কৌশলগত অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আমেরিকার বোয়িং কোম্পানি থেকে ১৪টি বিমান কেনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। গতকাল ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এই চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। ‘বিমান বাংলাদেশ’ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে এই চুক্তির আওতায় আটটি ৭৮৭-১০, দু’টি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭ ম্যাক্স৮ মডেলের বিমান কেনা হবে। ৩৫ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল চুক্তির অর্থ বাংলাদেশ আগামী ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে কিস্তিতে পরিশোধের সুবিধা পাবে।
কমতে পারে শুল্কের হার Bangladesh-US Trade Deal
বর্তমানে বাংলাদেশি পণ্যে মার্কিন শুল্কের হার ২০ শতাংশ। সূত্রমতে, বোয়িং বিমান ক্রয়ের চুক্তি চূড়ান্ত হলে এই শুল্ক ১৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে এনেছে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনায় শুল্কের হার ১৮ শতাংশের নিচেও নেমে আসতে পারে। এছাড়াও, এই বাণিজ্য সমঝোতার অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ওপর রফতানি শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি মার্কিন পণ্য কেনার বিষয়টি চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
চূড়ান্ত চুক্তিতে সই করার জন্য বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনে পৌঁছেছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের পূর্বেই এই চুক্তি সম্পন্ন করে নতুন সরকারের ওপর থেকে বাণিজ্যিক চাপ কমানোর চেষ্টা করছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।




















