তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। (Donald Trump)মাত্র এক সপ্তাহ আগে যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। আর এখন তার ছেলে মোজতাবা খামেনেইকে ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কণ্ঠে উঠেছে কড়া হুঁশিয়ারি। তিনি সরাসরি বলেছেন, “যদি আমাদের অনুমোদন ছাড়া সে ক্ষমতায় থাকে, তাহলে সে বেশিদিন টিকবে না।”
কেউ কেউ এই কথাকে আরও সরাসরি ব্যাখ্যা করছেন ট্রাম্পের ‘হিটলিস্ট’-এ মোজতাবা এখন পরবর্তী লক্ষ্য!২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে শুরু হয়েছিল এই সংঘাতের আগুন। ইসরায়েলি বিমানবাহিনী, মার্কিন সামরিক সহায়তায় তেহরানের উপর ব্যাপক হামলা চালায়। সেই হামলায় আলি খামেনেইয়ের গোপন আস্তানায় আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র। তার সঙ্গে তার পরিবারের অনেক সদস্যও প্রাণ হারান।
আরও দেখুনঃ তেহরানে অ্যাসিড বৃষ্টির সতর্কতা! মার্কিন-ইজরায়েল হানায় কাঁপছে ইরান
ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া প্রথমে নীরব থাকলেও পরে নিশ্চিত করে তাদের সর্বোচ্চ নেতা আর নেই। এই ঘটনা ইরানের ৪৭ বছরের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা।আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানের এক্সপার্টস অ্যাসেম্বলি দ্রুত বৈঠক করে। রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর চাপে মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই তার ছেলে মোজতাবা খামেনেইকে নতুন সুপ্রিম লিডার ঘোষণা করা হয়।
৫৬ বছর বয়সী মোজতাবা দীর্ঘদিন ধরে তার বাবার ছায়ায় কাজ করেছেন। তিনি কখনো নির্বাচিত পদে ছিলেন না, কিন্তু পর্দার আড়ালে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছেন। আইআরজিসি-র সঙ্গে তার গভীর যোগাযোগ, ২০০৯-এর গ্রিন মুভমেন্ট এবং ২০২২-এর বিক্ষোভ দমনে তার ভূমিকা সবকিছুই তাকে হার্ডলাইনার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আমেরিকা ২০১৯ সাল থেকেই তাকে নিষিদ্ধ করেছে।
এই নিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া আসে। তিনি এবিসি নিউজকে বলেন, “ইরানের নতুন নেতা যদি আমাদের অনুমোদন না নেয়, তাহলে সে টিকবে না। আমরা চাই না ভবিষ্যতে প্রতি দশ বছর অন্তর ফিরে এসে যুদ্ধ করতে হয়।” অনেকে এই কথাকে ‘হিটলিস্ট’-এর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।



















