তেহরান: ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (Hossein Taeb)-এর প্রাক্তন গোয়েন্দা প্রধান হোসেইন তায়েবের বাসভবনে সম্প্রতি একটি প্রিসিশন স্ট্রাইক হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে যে, এই হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। তায়েবকে ইরানের অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নের অন্যতম মূল চরিত্র হিসেবে দেখা হয়, যার হাতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর দায় রয়েছে বলে বিরোধী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করে আসছে।
খবর অনুযায়ী, তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় তায়েবের বাড়িতে ড্রোন বা মিসাইল দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। কিছু সূত্র বলছে, এটি যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি অপারেশনের অংশ। হামলার পর বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ছবি ও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ধোঁয়া ও আগুনের কালো স্তম্ভ আকাশ ছুঁয়েছে। এলাকাটি সিকিউরিটি ফোর্স দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। তবে তায়েবের মৃত্যু নিশ্চিত কি না, তা এখনও অফিশিয়ালি নিশ্চিত হয়নি।
আরও দেখুনঃ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালের টিকিটের কালোবাজারি আমেদাবাদ জুড়ে, আটক ২
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড-সংশ্লিষ্ট ফার্স নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে যে, তায়েব জীবিত আছেন এবং হামলার খবর মিথ্যা। তারা বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি বিমান হামলায় তায়েব নিহত হয়েছেন এমন দাবি ভিত্তিহীন। তিনি নিরাপদে আছেন।” কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে বাড়ির ধ্বংসাবশেষ দেখে অনেকে বিশ্বাস করছেন যে, হামলা সফল হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, তায়েব হয়তো বাড়িতে ছিলেন না, বা হামলা থেকে বেঁচে গেছেন।
হোসেইন তায়েব কে? ২০০৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি আইআরজিসি-র গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ছিলেন। এই সময়ে ২০০৯-এর নির্বাচন-পরবর্তী বিক্ষোভ, ২০১৯-এর জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২২-এর মাহসা আমিনির মৃত্যু-পরবর্তী বিক্ষোভ দমনে তার ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়। বিরোধীদের অভিযোগ, তার নির্দেশে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার, নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছে। বেসিজ বাহিনীর কমান্ডার হিসেবেও তিনি ২০০৯-এর দমন অভিযানে জড়িত ছিলেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকা তাকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অনেকে তাকে ‘চেইন মার্ডার্স’-এর সঙ্গেও যুক্ত বলে মনে করেন।এই হামলার খবর ইরানের অভ্যন্তরীণ বিরোধীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেকে বলছেন, “যার হাতে হাজার হাজার নিরীহ মানুষের রক্ত লেগে আছে, তার শাস্তি হয়েছে।” অন্যদিকে, শাসকগোষ্ঠীর সমর্থকরা এটিকে “ইসরায়েলি আগ্রাসন” বলে নিন্দা করছেন। এই ঘটনা চলমান যুদ্ধের অংশ। গত কয়েক মাসে ইরানের একাধিক সামরিক ও নিউক্লিয়ার সাইটে হামলা হয়েছে। তায়েবের বাড়িতে হামলা যদি সত্যি হয়, তাহলে এটি ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গভীর ফাটলের ইঙ্গিত।



















