নয়াদিল্লি: দিল্লির উত্তমনগরে হোলির দিন ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পর মারাত্মক অ্যাকশন পুলিশের (Uttam Nagar)। এখন বুলডোজারের আওয়াজে কেঁপে উঠছে এলাকা। রবিবার (৮ মার্চ) মিউনিসিপাল কর্পোরেশন অফ দিল্লি (এমসিডি) অভিযুক্ত নিজামুদ্দিনের সম্পত্তির অবৈধ অংশগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই অ্যাকশনটি মূল অভিযুক্ত নিজামুদ্দিনের বাড়ির সঙ্গে যুক্ত অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ৪ মার্চ হোলির রাতে। উত্তমনগরের জেজে কলোনি এলাকায় একটি ছোট্ট ঘটনা থেকে শুরু হয়েছিল বিবাদ। একটি ৯ বছরের মেয়ে ছাদ থেকে একটি জলভর্তি বেলুন ফেলে দিয়েছিল, যা এক মহিলার গায়ে লাগে। এই নিয়ে দুই প্রতিবেশী পরিবারের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়ে যায়। ২০-২৫ জনের একটি দল লোহার রড, লাঠি, ইট-পাথর নিয়ে হামলা চালায়। এই হামলায় গুরুতর আহত হন ২৬ বছরের তরুণ কুমার। তার মাথায় গুরুতর চোট লাগে।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। তারুণ ডিজিটাল মার্কেটিং পড়ছিলেন, পরিবারের সহায়তা করার জন্য কাজ করতেন। পরিবারের দাবি, তাকে বাড়িতে ডেকে এনে লোভ দেখিয়ে হত্যা করা হয়েছে।পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। এখনও পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে একজন নাবালক। অভিযুক্তদের মধ্যে নিজামুদ্দিনকে মূল চক্রী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এফআইআরে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ১১০ (হত্যার চেষ্টা) এবং ৩(৫) (সাধারণ উদ্দেশ্য) ছাড়াও পরে হত্যার ধারা যোগ করা হয়েছে।
কিছু রিপোর্টে এসসি/এসটি অ্যাক্টও যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা চালায়, গাড়ি-বাইক জ্বালিয়ে দেয়। প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি আরএএফ ও সিআরপিএফ মোতায়েন করা হয়েছে।এই পরিপ্রেক্ষিতে এমসিডির বুলডোজার অ্যাকশন এসেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিজামুদ্দিনের সম্পত্তির অবৈধ অংশগুলো চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
এটি শুধু অপরাধের শাস্তি নয়, অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন, বলছেন এটাই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রয়োগ। কিন্তু কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন এই অ্যাকশন কি আইনের আওতায় সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত? দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে, যা পাঁচ দশক ধরে চলছে। তবু হোলির দিন এমন নৃশংসতা অনেকের কাছেই অকল্পনীয়।



















