তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা উত্তেজনার মাঝে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian)। প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যেসব হামলা হয়েছে তার জন্য তেহরান দুঃখিত। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, ভবিষ্যতে প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্য করে আর কোনো হামলা চালানো হবে না যদি না সেখান থেকে ইরানের ওপর আক্রমণ শুরু হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, “আমি আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চাইছি, যেগুলো এই সংঘাতের সময় ইরানের হামলার মুখে পড়েছে। গতকাল অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে আর কোনো হামলা হবে না এবং সেখান থেকে ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ না হলে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে না।”
আরও দেখুনঃ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে সাবমেরিনের শক্তি, INS খান্দেরিতে বসবে দেশীয় এআইপি সিস্টেম
তবে ক্ষমা চাইলেও ইরান যে কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তার কথায়, “ইরানি জনগণ আত্মসমর্পণ করবে শত্রুরা এই আশা যদি করে থাকে, তবে সেই আশা তাদের কবর পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে।” এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, সংঘাতের আবহে তেহরান এখনও কঠোর অবস্থানেই রয়েছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরান একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে। এই হামলার প্রধান কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইর মৃত্যুর প্রতিশোধ। ইরানি নেতৃত্ব দাবি করেছে, এই হামলাগুলো ছিল তাদের প্রতিক্রিয়া এবং প্রতিরোধের অংশ।
এই সংঘাতের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবি, কাতার, কুয়েত এবং বাহরিনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, কিছু এলাকায় বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এই উত্তেজনার সূচনা হয় ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে। ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত সেই অভিযানে তেহরানসহ একাধিক শহরে হামলা হয়। আমেরিকা ও ইসরায়েলের দাবি ছিল, দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা পারমাণবিক আলোচনার মাঝেই ইরান আবারও তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করতে শুরু করেছে।
এই হামলায় তেহরানের একটি সুরক্ষিত কমপাউন্ডে অবস্থানরত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই নিহত হন বলে খবর সামনে আসে। শুধু তিনিই নন, হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তার মেয়ে, জামাই এবং নাতনি। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর খামেনেইয়ের স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহও মারা যান বলে জানা যায়।
এই ঘটনার পর থেকেই ইরান প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিতে শুরু করে এবং একাধিক হামলা চালায়। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এই সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে এবং তার প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে।



















