কাবুল: এক রাতেই ১০০ পার! আফগান বাহিনীর দাবি অনুসারে, গত রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর (Afghanistan)বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে ১০৯ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং ১৫০ জন আহত হয়েছে। আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এনায়াতুল্লাহ খোয়ারিজমি এই বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন যে, ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন সেক্টরে, বিশেষ করে কান্দাহার, নাঙ্গারহার, কুনার, খোস্ত, পাক্তিয়া ও পাক্তিকা প্রদেশে ২৮টি স্থানে বড় আকারের হামলা চালানো হয়েছে।
এতে ১৪টি পাকিস্তানি সামরিক পোস্ট দখল ও ধ্বংস করা হয়েছে এবং ৩টি বড় সামরিক ঘাঁটিও নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে।এই অভিযানকে আফগান কর্তৃপক্ষ ‘রদ্দুল জুলম’ (অত্যাচারের প্রতিরোধ) অপারেশনের অংশ বলে বর্ণনা করেছে। খোয়ারিজমি বলেছেন, এটি পাকিস্তানি বাহিনীর আগ্রাসনের জবাবে চালানো হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাকিস্তান বিমান হামলা চালিয়ে আফগানিস্তানের ভেতরে টিটিপি (তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান) ও আইএস-খোরাসানের ক্যাম্প ধ্বংস করার দাবি করে।
আরও দেখুনঃ ‘মৃত্যু পর্যন্ত মমতার পাশেই থাকব’! নন্দীগ্রামের স্মৃতিচারণায় জয় গোস্বামী
এর প্রতিক্রিয়ায় আফগান বাহিনী ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রত্যাঘাত শুরু করে, যা এখন ‘ওপেন ওয়ার’-এ পরিণত হয়েছে।আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, এই অপারেশনে গত ২৪ ঘণ্টায়ই ১০৯ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। পুরো অভিযানে এ পর্যন্ত ৩২৭ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। তারা আরও দাবি করেছে যে, অনেক পোস্ট দখল করে অস্ত্র ও সরঞ্জাম হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এই খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, বিশেষ করে ভিডিও ক্লিপগুলো যেখানে মুখপাত্র বিস্তারিত বিবরণ দিচ্ছেন।পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই দাবি তীব্রভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আইএসপিআর এবং তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, আফগান দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রচারণা। তারা দাবি করেছে যে, গত কয়েকদিনে পাকিস্তানি বাহিনী ৪৬৪ জন আফগান যোদ্ধা নিহত এবং ৬৬৫ জন আহত করেছে। পাকিস্তানের দিক থেকে নিহত সেনার সংখ্যা অনেক কম মাত্র ১২-২৮ জনের মতো। তারা বলছে, আফগান বাহিনী ও টিটিপি মিলে আক্রমণ করছে, এবং পাকিস্তান শুধু নিজের ভূখণ্ড রক্ষা করছে।
এই সংঘর্ষ ডুরান্ড লাইন বরাবর ছড়িয়ে পড়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে বিতর্কিত সীমান্ত। সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারী গোলাবর্ষণ, বিস্ফোরণ এবং ড্রোন হামলা চলছে। রাষ্ট্রসংঘের তথ্য অনুসারে, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬৬,০০০ আফগান নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। নাঙ্গারহার, খোস্ত, পাক্তিয়া, পাক্তিকা, কুনার প্রভৃতি প্রদেশে হাজার হাজার পরিবার ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। বেসামরিক লোকজনের মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৫৬ জনের, আহত ১৫৬ জন। হাসপাতাল, স্কুল এবং ত্রাণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।



















