ট্রাম্পের গ্রিন সিগন্যাল! যুদ্ধ আবহে রাশিয়ার তেল কেনায় ভারতকে ছাড় আমেরিকার

নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে ঘনাচ্ছে জ্বালানি সংকটের কালো মেঘ। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী শক্তির বাজার স্থিতিশীল রাখতে এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ করল আমেরিকা। ভারতীয় শোধনাগারগুলিকে (Refineries) রাশিয়ার অপরিশোধিত ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
US waiver for India to buy Russian oil

নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে ঘনাচ্ছে জ্বালানি সংকটের কালো মেঘ। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী শক্তির বাজার স্থিতিশীল রাখতে এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ করল আমেরিকা। ভারতীয় শোধনাগারগুলিকে (Refineries) রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের অস্থায়ী ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি (অর্থমন্ত্রী) স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent)।

কী জানালেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি?

শুক্রবার এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে স্কট বেসেন্ট লেখেন, “প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এনার্জি অ্যাজেন্ডার কারণে তেল ও গ্যাস উৎপাদন রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ যাতে সচল থাকে, সেই কারণেই ভারতীয় শোধনাগারগুলিকে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ৩০ দিনের অস্থায়ী ছাড় দিচ্ছে।”

   

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপে রাশিয়া আর্থিকভাবে খুব বেশি লাভবান হবে না। কারণ, যে তেলের চালান ইতিমধ্যেই সমুদ্রে আটকে রয়েছে, শুধুমাত্র সেগুলি কেনারই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ভারত আমেরিকার ‘অপরিহার্য অংশীদার’ US waiver for India to buy Russian oil

ভারতকে আমেরিকার ‘অপরিহার্য অংশীদার’ বলে উল্লেখ করেছেন বেসেন্ট। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী দিনে নয়াদিল্লি আমেরিকার কাছ থেকে তেল কেনার পরিমাণ বাড়াবে। তাঁর কথায়, “ইরান যেভাবে বিশ্ব শক্তির বাজারকে দখল করার চেষ্টা করছে, আমেরিকার এই অস্থায়ী পদক্ষেপ সেই চাপ অনেকটাই কমাবে।”

ছাড়ের নেপথ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত

গত সপ্তাহ থেকে ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। উপসাগরীয় দেশগুলিতে মিসাইল হামলার জেরে তেল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সৌদি আরামকোর রাস তনুরা শোধনাগার এবং ইরাকের রুমাইলা তৈলক্ষেত্রে হামলা হয়েছে।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণকারী ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরুদ্ধ করেছে ইরান। এর ফলেই বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সমীকরণ

ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে ভারত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছিল। তবে সম্প্রতি ওয়াশিংটনের চাপে নয়াদিল্লি রাশিয়ার তেল কেনা কিছুটা কমায়। এর বিনিময়ে ভারতের ওপর থেকে বেশ কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক কমায় আমেরিকা এবং দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। তবে বর্তমান আপৎকালীন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট সামাল দিতে ভারতকে ফের রাশিয়ার তেল কেনার এই বিশেষ ছাড় দিল ট্রাম্প প্রশাসন।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।