রাজ্য বাজেটে আবারও গৃহলক্ষ্মীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী (West Bengal) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ভাতা বাড়িয়ে শুক্রবার থেকেই টাকা পৌঁছে গিয়েছে প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, এই উদ্যোগ ভোটবাক্সে কেমন প্রভাব ফেলবে?
রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় ৫০ শতাংশ মহিলা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল এই মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে টার্গেট করেছিল। সেই সময়ই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালু করার আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি প্রকল্প যেমন কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী, মাতৃবন্দনা বা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সবুজসাথী। সবই মূলত মহিলাদের সঙ্গে যুক্ত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপুল জয়ের পিছনে মহিলা ভোটারদের সমর্থন ছিল অন্যতম প্রধান কারণ। তাই এবারও বিধানসভা ভোটের আগে এই ঘোষণাকে ভোট প্রভাবিত করার অংশ হিসাবেই দেখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে ‘সঙ্গে সুমন’ সোশ্যাল মিডিয়ায় করানো সমীক্ষায় দেখা গেছে, অন্তর্বর্তী বাজেটে ভাতা দেওয়া নিয়ে ভোটপ্রভাবকে ঘিরে মানুষ যেমন মতভেদ পোষণ করছে:
অন্তর্বর্তী বাজেটে হাত উপুড় করে ভাতা বিলিয়ে কি ভোটের আগে বিজেপিকে টেক্কা দিলেন মমতা?
হ্যাঁ: ৪২%
না: ৫৫%
জানি না: ৩%
পাঁচশো-হাজার টাকা ভাতা বাড়িয়ে কি সংখ্য়াগরিষ্ঠ মানুষের মন জয় করতে পারবেন মমতা?
হ্যাঁ: ২৪%
না: ৭৩%
জানি না: ৩%
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের আগে এই ধরনের অর্থনৈতিক প্রণোদনা তৃণমূলের জন্য কিছুটা সুবিধাজনক হলেও, ভোটারদের সমর্থন প্রাপ্তি পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। এবারের বাজেট এবং ভাতা বৃদ্ধি কি মহিলা ভোটারদের মধ্যে আবারও তৃণমূলের জন্য ‘লক্ষ্মীর লোভ’ সৃষ্টি করতে পারবে? প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। রাজ্যবাসীর নজর এখন বাজেটের প্রভাব এবং ভোটের আগে এই প্রকল্প কতটা কার্যকরী হবে, সেই দিকে।




















