কলকাতা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এবার তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে দেশের পরবর্তী ‘সুপ্রিম লিডার’ হতে চলেছেন তাঁরই পুত্র মোজতবা হোসেইনি খামেনি। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে এই ক্ষমতা হস্তান্তর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
শৈশব এবং ধর্মীয় শিক্ষা
১৯৬৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণ করা মোজতবা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আবহে বেড়ে ওঠেন। কোম শহরে শিয়া ধর্মতত্ত্বে পাঠ নিয়ে তিনি ‘হোজাতোলেস্লাম’ উপাধি লাভ করেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়কার সামরিক অভিজ্ঞতা তাঁকে ইরানের শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় এবং ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC)-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ করে তোলে। জনসমক্ষে বা কোনও সরকারি পদে তাঁকে খুব একটা দেখা না গেলেও, রাজনৈতিক নিয়োগ ও কৌশল নির্ধারণে পর্দার আড়ালে তিনি বরাবরই অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক।
রাজতান্ত্রিক উত্তরাধিকার Mojtaba Khamenei new Supreme Leader
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ নামক এক বিশেষ পর্ষদ। আলি খামেনির মৃত্যুর পর তারা বৈঠক করে মোজতবাকেই সমর্থন জানিয়েছে বলে খবর। তবে এই নিয়োগ ঘিরে বিতর্কও বিস্তর। সমালোচকদের মতে, প্রাক্তন সুপ্রিম লিডারের ছেলেকে এই পদে বসানো একপ্রকার রাজতান্ত্রিক উত্তরাধিকার তৈরি করা, যা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের মূল আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এছাড়া, সর্বোচ্চ পদের জন্য তাঁর প্রয়োজনীয় ধর্মীয় যোগ্যতা রয়েছে কি না, তা নিয়েও একাংশ প্রশ্ন তুলছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে এক রক্ষণশীল রাজনীতিবিদের কন্যা জাহরা হাদ্দাদ-আদেলকে বিবাহ করায় ইরানের অভিজাত মহলে তাঁর প্রভাব আরও সুদৃঢ় হয়েছে। পর্দার আড়ালের এই নীরব অথচ প্রবল ক্ষমতাশালী নেতা পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন, নাকি বর্তমান অস্থিরতায় ইরানের জন্য নতুন কোনও দিশা তৈরি করবেন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।



















