তেহরান: ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) জানিয়েছে যে, তারা তেহরানে (Masoud Pezeshkian)একটি প্রিসিশন স্ট্রাইক চালিয়েছে। এই হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের একজন সিনিয়র অফিসিয়াল। এই হামলায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলি রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে। তবে ইরানের কাছ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা যুদ্ধকে আরও কঠিন জায়গায় নিয়ে গিয়েছে বলেই মত কূটনীতিকদের।
ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর থেকে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।আইডিএফ-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই স্ট্রাইক ছিল “প্রিসিশন” এবং লক্ষ্য ছিল ইরানের নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তেহরানের সেন্ট্রাল এলাকায় এই হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে প্রেসিডেন্টের অফিস এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ভবন লক্ষ্য করা হয়েছে। কিছু সূত্র বলছে, হামলায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের অফিসে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে এবং তিনি সেখানে থাকার সময় আঘাত পেয়েছেন।
আরও দেখুন: বিশ্বকাপে চমক! সেমিতে ভারতের ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্বে ‘ইন্ডিয়ান’
ইরানি মিডিয়া এখনও এই দাবি নিশ্চিত করেনি, কিন্তু কিছু ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরে বলা হচ্ছে যে, প্রেসিডেন্টের অবস্থা গুরুতর।এই হামলা খামেনির মৃত্যুর পর ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানের অংশ। ২৮ ফেব্রুয়ারি খামেনিকে হত্যা করার পর ইরান প্রতিশোধমূলক মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, ইউএই, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে। এর জবাবে ইসরায়েল তেহরানে নতুন করে স্ট্রাইক শুরু করেছে।
আইডিএফ বলছে, তারা ইরানের নেতৃত্বকে “ডেক্যাপিটেট” করার লক্ষ্যে কাজ করছে। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন লিডারশিপ কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান, জুডিশিয়ারি প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-ইজেই এবং আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি রয়েছেন। পেজেশকিয়ান এই কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য।প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তেহরানে উত্তেজনা বেড়েছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় টিভিতে তার অবস্থা নিয়ে কোনো আপডেট দেওয়া হয়নি, কিন্তু কয়েকদিন আগে তিনি ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন যে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “শক্তিশালীভাবে” প্রতিক্রিয়া জানাবে। যদি তিনি সত্যিই আহত হন, তাহলে ইরানের নেতৃত্বে আরও বড় শূন্যতা তৈরি হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না, কিন্তু যদি আক্রমণ চলতে থাকে তাহলে আমরা প্রতিরোধ করব।”
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই স্ট্রাইকগুলো ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং নিউক্লিয়ার প্রোগ্রামকে লক্ষ্য করে। প্রেসিডেন্টের অফিস লক্ষ্য করা হয়েছে কারণ সেখান থেকে যুদ্ধের নির্দেশনা আসছে। তেহরানের আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, ধোঁয়ার স্তম্ভ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “আমরা ভয়ে আছি। নেতৃত্ব যদি একের পর এক মারা যায়, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ কী হবে?”



















