ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেই ভারতের দখলে আসছে POK?

ওয়াশিংটন: ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির মধ্যে দিয়েই এবার কি তবে ভারতের দখলে আসতে চলেছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর?(POK) আমেরিকার ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ অফিস (ইউএসটিআর) সম্প্রতি ভারতের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে, ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
pok-on-ustr-map-india-us-trade-trump-jammu-kashmir

ওয়াশিংটন: ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির মধ্যে দিয়েই এবার কি তবে ভারতের দখলে আসতে চলেছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর?(POK) আমেরিকার ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ অফিস (ইউএসটিআর) সম্প্রতি ভারতের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যাতে সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) সহ ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই মানচিত্রে কোনো পৃথক সীমানা বা বিতর্কিত অঞ্চলের চিহ্ন নেই, যা পূর্ববর্তী আমেরিকান সরকারি মানচিত্রগুলির থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এই ঘটনা ঘটেছে ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার ভারত-আমেরিকার মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে। চুক্তিতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক ১৮ শতাংশে নামানো হয়েছে, যা ভারতের কৃষি ও শিল্প খাতের জন্য স্বস্তির খবর। কিন্তু মানচিত্রটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে, কারণ এটি ভারতের অফিসিয়াল রাজনৈতিক মানচিত্রের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যাচ্ছে।

   

আরও দেখুন: বিশ্বকাপের বোধনেই ক্যাপ্টেন নয় সূর্য! কি বললেন?

এই মানচিত্রে শুধু পিওকে নয়, আকসাই চিনও ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা চীনের দাবিকৃত অঞ্চল। পূর্বে আমেরিকান স্টেট ডিপার্টমেন্ট বা অন্যান্য সংস্থার মানচিত্রে কাশ্মীরকে বিতর্কিত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে লাইন অফ কন্ট্রোল (এলওসি) দিয়ে আলাদা করা হতো। কিন্তু এবার ইউএসটিআর-এর পোস্টে কোনো ডটেড লাইন বা নোট নেই সমগ্র অঞ্চল একই রঙে ভারতের অংশ।

এটিকে অনেকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইসলামাবাদকে স্পষ্ট বার্তা বলে মনে করছেন। ভারত সবসময় বলে এসেছে যে জম্মু ও কাশ্মীর তার অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং এই মানচিত্র সেই দাবিকে সমর্থন করছে।এই ঘটনার পটভূমিতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের ওয়াশিংটন সফরগুলি এখন আরও বেশি আলোচিত হচ্ছে। গত কয়েক মাসে মুনির একাধিকবার আমেরিকা গিয়েছেন কখনো প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে, কখনো একা।

তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেছেন, লবিং ফার্ম নিয়োগ করেছেন, এমনকি পাকিস্তান ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়নও দিয়েছে। লক্ষ্য ছিল আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করা, ভারতের বিরুদ্ধে ভারসাম্য রাখা এবং অর্থনৈতিক-সামরিক সুবিধা আদায় করা। পাকিস্তান লবিংয়ে ব্যয় করেছে কোটি কোটি ডলার, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে।

কিন্তু ফলাফল? বাস্তবতা লবিংকে হারিয়ে দিয়েছে।ইউএসটিআর-এর এই মানচিত্র প্রকাশের পর পাকিস্তানের প্রচেষ্টা যেন ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তিতে ভারত ১৮ শতাংশ শুল্ক পেয়েছে, পাকিস্তান ১৯ শতাংশ যা ছোট পার্থক্য হলেও প্রতীকী। মুনিরকে ‘সেলসম্যান-ইন-চিফ’ বলে সমালোচনা হচ্ছে, কারণ তার ওয়াশিংটন ট্রিপগুলি কোনো বড় সাফল্য এনে দেয়নি। বরং ভারতের সঙ্গে আমেরিকার কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে প্রাধান্য দিচ্ছে, যা পাকিস্তানের জন্য অস্বস্তিকর।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google