তেহরান: যুদ্ধের ধাঁচে নয়া মোড় আনল ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি দাবি করেছে যে, ইরান (Kheibar Shekan Missile)তার উন্নত খাইবার শেকান ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ে আমেরিকা এবং ইসরায়েলের ‘শত্রু লক্ষ্যবস্তু’তে আঘাত হেনেছে। এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধকে নতুন মাত্রা দিয়েছে, যা ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর থেকে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
প্রেস টিভির খবর অনুযায়ী, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই মিসাইলগুলো ব্যবহার করে ইসরায়েলের সরকারি ও সামরিক স্থাপনা, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর অফিস এবং এয়ার ফোর্স কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে। এটি ‘অপারেশন হোনেস্ট প্রমিস ৪’-এর দশম বা একাদশ ওয়েভের অংশ বলে দাবি করা হয়েছে।
আরও দেখুন:খামেনেই মৃত্যুর প্রতিবাদ করতে গিয়ে পাক সেনার গুলিতে রক্তাক্ত গিলগিট-বালতিস্তান
খাইবার শেকান ইরানের তৃতীয় প্রজন্মের সলিড-ফুয়েল মিডিয়াম-রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল, যার রেঞ্জ প্রায় ১,৪৫০ কিলোমিটার। এটি উচ্চ গতি (ম্যাক ৮ পর্যন্ত), ম্যানুভারেবিলিটি এবং অ্যান্টি-মিসাইল ডিফেন্স ভেদ করার ক্ষমতা রাখে। আইআরজিসি দাবি করেছে যে, এই মিসাইল ইসরায়েলের আয়রন ডোম, ডেভিড’স স্লিং এবং অ্যারো সিস্টেমের মতো লেয়ার্ড ডিফেন্সকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে।
প্রেস টিভি ও তাসনিম নিউজের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই হামলায় ইসরায়েলের টেল আভিভ, হাইফা এবং অন্যান্য স্থানে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিছু রিপোর্টে এটিকে ‘হাইপারসনিক’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি ম্যানুভারিং রি-এন্ট্রি ভেহিকল (MaRV) দিয়ে সজ্জিত। ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হন, যা ইরানকে প্রতিশোধের পথে ঠেলে দিয়েছে।
তারপর থেকে ইরান ‘অপারেশন হোনেস্ট প্রমিস ৪’-এর অধীনে শত শত মিসাইল ও ড্রোন ছুড়েছে ইসরায়েল, মার্কিন ঘাঁটি এবং সৌদি, ইউএই, কাতার, কুয়েতের মতো মিত্র দেশের এনার্জি সাইট লক্ষ্য করে। ফুজাইরাহ তেল ডিপো, রাস লাফান গ্যাস প্ল্যান্ট, রাস তানুরা রিফাইনারিতে আগুন লেগেছে। ইরানের দাবি, এই হামলা দিয়ে তারা শত্রুদের খরচ বাড়িয়ে যুদ্ধবিরতি আদায় করতে চায়।



















