ঢাকা: যশোরের অভয়নগর উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামে একটি নৃশংস ঘটনা ঘটেছে,(Sabita Rani De) যা স্থানীয় সমাজে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। গত বছর ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সবিতা রাণী দে (৫০/৫২) নামে এক হিন্দু গৃহবধূকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। তিনি গরুর খাবার (ঘাস) সংগ্রহ করতে সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন, কিন্তু আর ফিরে আসেননি।
সন্ধ্যায় তার লাশ উদ্ধার করা হয় স্থানীয় একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্ক বা বাথরুমের ট্যাঙ্কি থেকে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজন নিয়ামুল শেখ (২৬), তার বাবা রমজান শেখ (৪৯) এবং চাচা ইউনূস শেখ (৪১) সকলেই ভাটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।নিহত সবিতা রাণীর স্বামী মিলন কুমার দে পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর অভয়নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনজনের নাম সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
আরও দেখুন: বিজেপির রাজ্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে থানায় বিজেপির প্রবীণ নেতার অভিযোগ
পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিনজনকেই গ্রেফতার করে। তদন্তে জানা যায়, সবিতা রাণীকে প্রথমে ধর্ষণ করা হয়, তারপর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং লাশ গোপন করার জন্য সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দেওয়া হয়। লাশ উদ্ধারের পর যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত করা হয়। প্রাথমিক রিপোর্টের পর ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়।
প্রায় পাঁচ মাস পর ভিসেরা প্রতিবেদন হাতে এসেছে। সেই রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে ধর্ষণের চিহ্ন রয়েছে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এই ফরেনসিক প্রমাণ অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত প্রায় শেষের দিকে। শিগগিরই চার্জশিট (অভিযোগপত্র) আদালতে জমা দেওয়া হবে। তবে এই ঘটনায় একটি বিতর্কিত দিক হলো অভিযুক্ত রমজান শেখ ও ইউনূস শেখ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
শুধু নিয়ামুল শেখ এখনও কারাগারে রয়েছেন। এই জামিনের খবর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অনেকে বলছেন, “ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণ ও হত্যার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে দুজনকে জামিন দেওয়া হলো?” স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, জামিনপ্রাপ্ত অভিযুক্তরা প্রভাব খাটিয়ে সাক্ষীদের ভয় দেখাতে পারেন বা প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করতে পারেন।
সবিতা রাণীর স্বামী মিলন কুমার দে ভাটপাড়া বাজারে ছোট একটা চায়ের দোকান চালান। সিঙ্গাড়া, পুরি বিক্রি করে সংসার চালাতেন। এই ঘটনার পর তার পরিবার ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। তারা দ্রুত বিচার এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। কেউ কেউ এটিকে শুধু অপরাধ নয়, সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখছেন, যদিও পুলিশ বলছে এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং তদন্ত চলছে।




















