কলকাতা: সোনার (Gold Price) বাজারে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অস্বাভাবিক অস্থিরতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। একদিন বড়সড় পতন, পরের দিনই আবার দর বাড়ছে৷ এই অবস্থায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে বিয়ের মরশুম সামনে থাকায় বহু পরিবার সোনা কেনার পরিকল্পনা করলেও বর্তমান দামের দিকে তাকিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। অনেকেই ভাবছেন, এখনই কিনবেন, নাকি আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা উচিত?
এই অবস্থায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে একটি প্রশ্ন সোনার দাম কি আবার ৭০ হাজার টাকার নীচে নামতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিচার করলে এই সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বরং এমন কিছু কারণ রয়েছে, যা সোনার দামের উপর চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান সোনার দামের উপর বড় প্রভাব ফেলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্তগুলির ফলে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। ডলার শক্তিশালী হলে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত সোনার পরিবর্তে ডলারে বিনিয়োগে আগ্রহী হন। এর ফলে সোনায় বিনিয়োগ করা অর্থ ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া হচ্ছে, যা দামের পতনের অন্যতম কারণ।
এর পাশাপাশি বিশ্ব রাজনীতির উত্তেজনা কিছুটা হলেও কমে আসাও সোনার বাজারে প্রভাব ফেলছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বেড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় যুদ্ধের আশঙ্কা কিছুটা কমায় বিনিয়োগকারীরা সোনায় করা লগ্নি থেকে লাভ তুলে নিচ্ছেন। বাজারের ভাষায় একে বলা হয় ‘প্রফিট বুকিং’, যা দামের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
তবে সোনার দাম ঠিক কতদূর নামতে পারে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম যদি গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন স্তর হারায়, তাহলে ভারতীয় বাজারে তার প্রভাব পড়বে। সেই ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে সোনার দাম ৭০ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। একই সঙ্গে ডলারের তুলনায় ভারতীয় রুপি সামান্য শক্তিশালী হলে সোনা আমদানির খরচ কমবে, যা দামের পতনকে আরও জোরদার করতে পারে।
তবে এই পতন হঠাৎ করে হবে না। আগামী কয়েক দিনে সোনার বাজারে আরও ওঠানামা দেখা যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো করে বড় সিদ্ধান্ত না নিয়ে দাম কমলে ধাপে ধাপে অল্প অল্প করে সোনা কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।




















