নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR ঘিরে তুমুল বিতর্কের (SIR Supreme Court) মধ্যে আজ সুপ্রিম কোর্টে এক ঐতিহাসিক শুনানি চলছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে দিল্লিতে উপস্থিত হয়ে এজলাসে রয়েছেন। এমনকি তাঁর দায়ের করা মামলায় নিজেই সওয়াল করছেন, যা দেশের ইতিহাসে প্রথম।
প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এই মামলা (নম্বর ৩৭) শুনানির জন্য তালিকায় রয়েছে, এবং শুনানি শুরু হয়ে গেছে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো খুবই গুরুতর।সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের প্রধান আবেদনগুলো হল প্রথমত, ১ কোটি ৩৬ লক্ষ (প্রায় ১.৩৬ কোটি) ভোটারের যে ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতি চিহ্নিত করা হয়েছে, তার কারণ স্পষ্টভাবে দেখাতে হবে।
আরও দেখুন: যোগী রাজ্যে তিন তালাকের মারাত্মক অভিযোগ প্রখ্যাত কবি কন্যার
এই বিপুল সংখ্যক ভোটারকে কেন নোটিস দিয়ে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে? কেন তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে? রাজ্যের দাবি, এই ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি’ ক্যাটাগরিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নামের বানানের ছোটখাটো ভুল, ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে মিল না হওয়া বা প্রজেনি ম্যাপিং-এ (সন্তান-পিতামাতার সম্পর্ক) অসঙ্গতি দেখানো হয়েছে। কিন্তু এগুলোকে বড় করে দেখিয়ে ভোটারদের হয়রানি করা হচ্ছে।
রাজ্য চাইছে, এই ক্যাটাগরির ভোটারদের নাম যেন না মুছে ফেলা হয়, বরং উপলব্ধ নথি দিয়ে সংশোধন করা হোক।দ্বিতীয় বড় আবেদন মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বা অন্যান্য স্কুল সার্টিফিকেট কেন গ্রহণ করা হচ্ছে না? রাজ্যের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এসব প্রমাণপত্রকে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে, যা ভোটারদের অধিকার লঙ্ঘন। অনেকে বয়স্ক, অসুস্থ বা দূরবর্তী এলাকার বাসিন্দা তাদের শুনানিতে হাজিরা দেওয়া কঠিন।
তাই রাজ্য চাইছে, এইসব ক্ষেত্রে শুনানি বাধ্যতামূলক না করে স্বয়ংক্রিয় সংশোধনের ব্যবস্থা করা হোক।সবচেয়ে তীব্র অভিযোগ উঠেছে ৮,৩০০ মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ নিয়ে। রাজ্যের দাবি, এই নিয়োগ সম্পূর্ণ বেআইনি। সংবিধান বা নির্বাচনী আইনে মাইক্রো অবজার্ভারের কোনও স্থান নেই। এরা কোনও স্ট্যাটুটরি পদ নয়, তবু লগইন আইডি দিয়ে তাদের SIR প্রক্রিয়ায় ঢোকানো হয়েছে। রাজ্যের অভিযোগ, এরা বিজেপি-ঘনিষ্ঠ লোক, যাদের দিয়ে ভোটারদের বৈধ নাম মুছে ফেলার চক্রান্ত চলছে। এই অবজার্ভাররা প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়েছে বলে দাবি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলায় আরও বলা হয়েছে যে, SIR-এর নির্দেশ WhatsApp-এর মতো অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে দেওয়া হচ্ছে, যা অস্বচ্ছ ও অবৈধ। লক্ষ লক্ষ ভোটারকে হয়রানি করা হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। রাজ্য চাইছে, ভোটার মুছে ফেলা বন্ধ করা হোক, লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির তালিকা সর্বজনীন করা হোক এবং প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা হোক।




















