নয়াদিল্লি: আজ, ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন লোকসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget)পেশ করার পরপরই ভারতীয় শেয়ার বাজারে দেখা গেল ভয়াবহ ধস। এই বিরল রবিবারের বিশেষ ট্রেডিং সেশনে সেনসেক্স ১,৫০০ থেকে ২,০০০ পয়েন্টেরও বেশি পড়ে গিয়েছে, আর নিফটি ২৫,০০০-এর নিচে নেমে এসেছে।
বাজেটের ঘোষণা শেষ হতেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ব্রোকারেজ, ডেরিভেটিভস-সম্পর্কিত স্টক এবং অনেক PSU শেয়ার লোয়ার সার্কিটে আটকে যায়। এই পতনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টাকার দামের আরও পতন এবং বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (এফআইআই) ব্যাপক বিক্রি, যা বাজারের মনোবলকে একদম ভেঙে দিয়েছে।
নয়া বাজেটে বাড়ল আয়কর জমা দেওয়ার সময়
বাজেটে অর্থমন্ত্রী ফিউচার্স ও অপশন (এফএন্ডও) ট্রেডিংয়ের উপর সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (এসটিটি) বাড়ানোর ঘোষণা করেন। ফিউচার্সের এসটিটি ০.০২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০.০৫ শতাংশ, অপশন প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে ০.১০ থেকে ০.১৫ শতাংশ এবং এক্সারসাইজের ক্ষেত্রে ০.১২৫ থেকে ০.১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই বাড়তি করের খবর বাজারে পড়তেই রিটেল ট্রেডার এবং ডেরিভেটিভস-নির্ভর বিনিয়োগকারীরা বিক্রির ঝড় তুলে দেন।
বিএসই, অ্যাঞ্জেল ওয়ান, গ্রো-এর মতো স্টক ১০-১৩ শতাংশ পর্যন্ত ধস নেয়। অনেকে বলছেন, এতে ট্রেডিং খরচ বেড়ে যাবে, ফলে ফিউচার্স-অপশনের ভলিউম কমবে এবং লিকুইডিটি কমে যাবে। বাজেটে ক্যাপেক্স বা অন্যান্য খাতে প্রত্যাশিত ঘোষণা না আসায় এবং ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স বা অন্যান্য রিলিফ না পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়েছেন।
এই ধসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারতীয় টাকার দামের আরও পতন। বাজেটের পর টাকা ডলারের বিপরীতে নতুন রেকর্ড লো-তে নেমেছে, যা ৯২-এর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (এফআইআই) বিক্রি এর অন্যতম কারণ। ২০২৫ সাল থেকে এফআইআই-রা প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ভারতীয় শেয়ার বিক্রি করেছেন, যার মধ্যে ২০২৬-এর জানুয়ারিতেই ৪ বিলিয়ন ডলারের মতো।
রুপির দুর্বলতা, উচ্চ ভ্যালুয়েশন এবং অন্যান্য বাজারে ভালো রিটার্নের সুযোগের কারণে এই ‘সেল ইন্ডিয়া’ স্ট্র্যাটেজি চলছে। বাজেটে এফআইআই-দের জন্য ট্যাক্স রিলিফ বা অন্যান্য আকর্ষণীয় ঘোষণা না আসায় তাদের বিক্রি আরও তীব্র হয়েছে। এতে বাজারের মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন থেকে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা উধাও হয়ে গেছে।




















