আজ, ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন লোকসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেছেন। (Union Budget)এটি তাঁর টানা নবম বাজেট, যা ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা। বাজেটের মূল থিম ছিল আত্মনির্ভরতা, টেকসই বৃদ্ধি এবং গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ছিল চারটি খনিজ-সমৃদ্ধ রাজ্য ওড়িশা, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ু তে ‘রেয়ার আর্থ করিডোর’ বা দুর্লভ মৃত্তিকা করিডোর স্থাপনের জন্য কেন্দ্রীয় সহায়তা প্রদান।
এই উদ্যোগ ভারতকে ক্রিটিক্যাল মিনারেলসের ক্ষেত্রে স্বনির্ভর করে তুলবে এবং গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনে দেশের অবস্থান মজবুত করবে।অর্থমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেছেন, “২০২৫ সালের নভেম্বরে রেয়ার আর্থ পার্মানেন্ট ম্যাগনেট স্কিম চালু হয়েছে। এখন আমরা প্রস্তাব করছি যে, খনিজ-সমৃদ্ধ রাজ্যগুলো ওড়িশা, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ু তে ডেডিকেটেড রেয়ার আর্থ করিডোর স্থাপন করা হবে।”
খাদির পাশাপাশি সিল্ক শিল্পের জন্য বিশেষ বরাদ্দ বাড়ছে
এই করিডোরগুলো খনন, প্রসেসিং, গবেষণা এবং ম্যানুফ্যাকচারিংকে উৎসাহিত করবে। রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস (REE) আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রিক ভেহিকল, উইন্ড টারবাইন, স্মার্টফোন, ডিফেন্স ইকুইপমেন্ট এবং সেমিকন্ডাক্টর থেকে শুরু করে সবকিছুতে এর ব্যবহার। বর্তমানে চীনের উপর ভারতের নির্ভরতা অনেকটা, এবং এই করিডোরগুলো সেই নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়াবে।
ওড়িশায় বিশাল পরিমাণে খনিজ সম্পদ রয়েছে, বিশেষ করে আয়রন ওর, বক্সাইট এবং ক্রোমাইটের সঙ্গে রেয়ার আর্থের সম্ভাবনা। এই রাজ্যে করিডোর স্থাপিত হলে খনন ও প্রসেসিংয়ের নতুন অধ্যায় শুরু হবে, যা স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়াবে। কেরলে চাভারা এলাকায় মোনাজাইট-সমৃদ্ধ বালুকাময় সৈকত রয়েছে, যা থোরিয়াম ও রেয়ার আর্থের অন্যতম উৎস।
কেরল সরকার ইতিমধ্যে ভিজিঞ্জম বন্দর-চাভারা-কোচি করিডোরের পরিকল্পনা করেছে, এবং কেন্দ্রীয় সহায়তা এটাকে আরও গতি দেবে। অন্ধ্রপ্রদেশে বিশাখাপত্তনমের কাছে খনিজ সম্পদ এবং তামিলনাড়ুতে তিরুনেলভেলি-কন্যাকুমারী এলাকায় মোনাজাইটের মজুত রয়েছে। এই চার রাজ্য মিলে ভারতের রেয়ার আর্থ প্রসেসিংয়ের একটা শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে।
এই ঘোষণা ভারতের ‘ন্যাশনাল ক্রিটিক্যাল মিনারেলস মিশন’-এর সঙ্গে যুক্ত। সরকারের লক্ষ্য ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলা, যেখানে ক্রিটিক্যাল মিনারেলসের স্বনির্ভরতা অত্যাবশ্যক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই করিডোরগুলো শুধু খনিজ উত্তোলন নয়, বরং ভ্যালু অ্যাডিশন, রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং হাই-টেক ম্যানুফ্যাকচারিংকে উৎসাহিত করবে। এতে হাজার হাজার উচ্চ-দক্ষ চাকরি সৃষ্টি হবে, বিশেষ করে যুবকদের জন্য। এছাড়া পরিবেশগত সুরক্ষা ও টেকসই খননের উপরও জোর দেওয়া হবে।




















