কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচন দোরগোড়ায়। তার মধ্যেই আরও একবার বাম শিবিরে ঘা দিলেন বিজেপি নেতা এবং (Marichjhapi)আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি নিজের এক্সহ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে বাম আমলে ঘটে যাওয়া মরিচঝাঁপির ঘটনাকে ফের তুলে ধরেছেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন যে বিজেপি শরণার্থীদের সঙ্গে কখনোই এই ধরণের নির্মমতা দেখায়নি। কেন্দ্রীয় সরকার CAA চালু করে শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিয়েছে। তবুও CAA নিয়ে বিতর্ক হয়।
১৯৭৯ সালে ঘটে যাওয়া মরিচঝাঁপির ঘটনা এখনও মানুষ মনে রেখেছে। দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা লক্ষ লক্ষ হিন্দু শরণার্থী বাংলায় আশ্রয় পাননি। বিশেষ করে নামশূদ্র সম্প্রদায়ের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষদের দণ্ডকারণ্যের অনুর্বর, জঙ্গলঘেরা এলাকায় পাঠানো হয়। সেখানে জীবনধারণ অসম্ভব হয়ে উঠলে ১৯৭৮ সালে হাজার হাজার শরণার্থী আবার বাংলায় ফেরার চেষ্টা করেন। তখনকার বামফ্রন্ট সরকার তাঁদের ‘অবৈধ নাগরিক’ বলে চিহ্নিত করে।
আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা ইচ্ছাকৃত! প্রকাশ্যে ভয়ঙ্কর তথ্য
২৬ জানুয়ারি ১৯৭৯ ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নির্দেশে মারিচঝাঁপিতে সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক অবরোধ জারি করা হয়। খাদ্য, ওষুধ, পানীয় জল সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। ৩১ জানুয়ারি পুলিশ মারিচঝাঁপিতে ঢোকে। অভিযোগ, গুলি চালানো হয় নিরস্ত্র শরণার্থীদের উপর।
সংবাদমাধ্যমকে দূরে রাখা হয়, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়, এবং বেঁচে যাওয়া মানুষদের জোর করে আবার দণ্ডকারণ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সরকারিভাবে মৃত্যুর কোনও সংখ্যা কখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে স্বাধীন গবেষক ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, মৃতের সংখ্যা ৫ হাজারেরও বেশি হতে পারে।
এই মর্মান্তিক নৃশংস ঘটনার নিন্দে করে তরুণজ্যোতি বলেছেন বামেদের সামনে শরণার্থীদের গুলি করে মারা হয়েছিল। কিন্তু বিজেপি সরকার এলে সমস্ত শরণার্থীদের CAA র মাধ্যমে দেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেছেন যে এই ঘটনার সময় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। আজ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়। তরুণজ্যোতি তার পোস্টে রীতিমত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে মরিচঝাঁপি নিয়ে মানবাধিকার কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। কিন্তু যখনই CAA নিয়ে কথা হয় তখনই মানবাধিকারের প্রশ্ন ওঠে কেন?




















