শ্রীনগর: কনকনে ঠান্ডা আর বরফে ঢাকা দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। তার মধ্যেই জঙ্গিদের খোঁজে চলছে ভারতীয় সেনার মেগা অপারেশন ‘ত্রাশি-১’৷ আজ, শনিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই জম্মু-কাশ্মীরের ডলগাম (Dolgam) এলাকায় ফের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের গুলির লড়াই শুরু হয়েছে। গত ১৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান আজ ১৪তম দিনে পা দিল।
ডলগামে নতুন করে সংঘর্ষ
সেনা সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরে জঙ্গিদের গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছিল। শনিবার ভোরে হোয়াইট নাইট কর্পস, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফ-এর যৌথ বাহিনী ডলগাম এলাকায় জঙ্গিদের অবস্থান চিহ্নিত করে এলাকাটি ঘিরে ফেলে৷ এর পরই সেনা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে জঙ্গিরা৷ সেনার পক্ষ থেকেও মোক্ষম জবাব দেওয়া হয়। বর্তমানে গোটা এলাকা ধিরে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
একাধিক জায়গায় অভিযান ও ইন্টারনেট বন্ধ Operation Trashi-I
ডলগামের পাশাপাশি কিশতওয়ার জেলার চাতরু এলাকাতেও জইশ-ই-মহম্মদ গোষ্ঠীর তিন জঙ্গির সন্ধানে তীব্র অভিযান চলছে। নিরাপত্তার স্বার্থে এবং গুজব রুখতে সিঙ্গপুরা, আরিগ্রাম, দওয়াথার এবং নাইদগাম-সহ প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। ২৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল, যা বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে জারি রয়েছে।
প্রতিকূল আবহাওয়া ও চ্যালেঞ্জ
অপারেশন ‘ত্রাশি-১’ শুরু হয়েছিল গত ১৮ জানুয়ারি। কিন্তু ঘন জঙ্গল, গভীর বরফ এবং প্রতিকূল ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা বারবার ডেরা বদল করছে। অভিযানের প্রথম দিনেই এক প্যারাট্রুপার শহিদ হন এবং সাতজন জওয়ান আহত হন। ২২ ও ২৫ জানুয়ারি মালি দানা টপ এবং কান্দিওয়ার এলাকায় দু’বার জঙ্গিরা মুখোমুখি হলেও ঘন কুয়াশা ও জঙ্গলের সুযোগ নিয়ে তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
সতর্কবার্তা ও বর্তমান পরিস্থিতি
গোয়েন্দা সূত্রের খবর সমন্বয় করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। ডলগামের এই এনকাউন্টারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তুষারপাতের ফলে দৃশ্যমানতা কম থাকায় ড্রোন এবং থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জঙ্গিদের পুরোপুরি নিকেশ না করা পর্যন্ত এই অপারেশন চলবে।




















