আইজল: উত্তর-পূর্ব ভারতের কৌশলগত মানচিত্রে মিজোরামকে আরও শক্তিশালী করতে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সেতুবন্ধন গড়তে বড়সড় প্রস্তাব দিলেন রাজ্যসভা সাংসদ কে বনলালভেনা। গত ২৭ জানুয়ারি, বাজেট অধিবেশনের প্রাক্কালে আয়োজিত সর্বদলীয় সংসদীয় ফ্লোর লিডারদের বৈঠকে তিনি আইজল সংলগ্ন সায়রাং থেকে ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত পর্যন্ত রেললাইন প্রকল্পের কাজ দ্রুত করার পক্ষে জোর সওয়াল করেন।
কৌশলগত গুরুত্ব ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
সাংসদ বনলালভেনা জানান, মিজোরামের সায়রাং থেকে রাজ্যের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত প্রস্তাবিত এই রেল সংযোগের প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। তাঁর মতে, এই রেল করিডোরটি নির্মিত হলে কেবল মিজোরামের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে না, বরং এটি ভারত সরকারের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির অধীনে মায়ানমার ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এই কারণেই আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে এই মেগা প্রকল্পের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
আইজল-সায়রাং সড়ক চার লেনের করার প্রস্তাব Mizoram Sairang Myanmar Railway
রেলপথের পাশাপাশি সড়কপথের পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপরেও বিশেষ জোর দিয়েছেন সাংসদ। তিনি বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৈরাবি-সায়রাং রেললাইনের উদ্বোধন করার পর থেকে ওই অঞ্চলে যানবাহনের চাপ প্রবলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সায়রাং রেলওয়ে স্টেশনটি মূলত আইজল এবং লেংপুই বিমানবন্দরের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় নিত্যদিন ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এই সমস্যা মেটাতে আইজল-সায়রাং রাস্তাকে চার লেনে উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন তিনি এবং এই সড়ক সম্প্রসারণের জন্যও বিশেষ বাজেটের দাবি জানিয়েছেন।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই রেললাইনটি নির্মিত হলে তা ভারতের জন্য মায়ানমার হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রবেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গেটওয়ে হিসেবে কাজ করবে। পার্বত্য রাজ্য মিজোরামের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এই সংযোগ ব্যবস্থা বিপ্লব আনবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।




















