নাসার (NASA) একটি নতুন গবেষণা পৃথিবীতে জলের উৎপত্তি সম্পর্কে দীর্ঘদিনের একটি তত্ত্বের উপর একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে। গবেষণা অনুসারে, পৃথিবীর বেশিরভাগ জল বাইরের উল্কাপিণ্ড থেকে আসেনি, বরং গ্রহের গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে উপস্থিত মূল উপাদান থেকে এসেছে। অ্যাপোলো মিশনের সময় চাঁদ থেকে আনা নমুনার বিশ্লেষণের উপর ভিত্তি করে এই গবেষণাটি করা হয়েছে এবং এটি জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমির কার্যপ্রণালীতে প্রকাশিত হয়েছে।
এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন নাসার জনসন স্পেস সেন্টার এবং লুনার অ্যান্ড প্ল্যানেটারি ইনস্টিটিউটের পোস্টডক্টরাল ফেলো টনি গারগানো। দলটি চাঁদের মাটি, বা চন্দ্র রেগোলিথ অধ্যয়নের জন্য একটি নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করেছে এবং দেখেছে যে এর প্রায় এক শতাংশ কার্বন সমৃদ্ধ উল্কাপিণ্ড দ্বারা গঠিত যা আঘাতের সময় আংশিকভাবে বাষ্পীভূত হয়েছিল।
গবেষকরা এই উল্কাপিণ্ডগুলিতে উপস্থিত জলের পরিমাণ অনুমান করেছেন এবং তারপর পৃথিবীর সাথে তুলনা করেছেন। যেহেতু পৃথিবী চাঁদের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি উল্কাপিণ্ড গ্রহণ করে, তাই বিশ্বাস করা হত যে জল সরবরাহে এগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু গবেষণা অনুসারে, উল্কাপিণ্ড থেকে প্রাপ্ত পানি পৃথিবীর মোট পানির একটি ছোট অংশ হতে পারে।
এই গবেষণার বিশেষ বিষয় হল এতে তিনগুণ অক্সিজেন আইসোটোপ পরিমাপ করা হয়েছিল। উল্কাপিণ্ডের আঘাত এবং তীব্র তাপ সত্ত্বেও এই আইসোটোপগুলি স্থিতিশীল থাকে, যার ফলে চাঁদের মাটিতে কতটা বাহ্যিক উপাদান রয়েছে তা সনাক্ত করা সহজ হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে পুরনো পদ্ধতিগুলি ধাতু সমৃদ্ধ উপাদানগুলির উপর বেশি মনোযোগ দিত, যা বারবার আঘাতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদ কোটি কোটি বছর আগের প্রভাবের প্রায় পুরো রেকর্ড সংরক্ষণ করে, যেখানে পৃথিবীতে টেকটোনিক গতিবিধি এবং আবহাওয়ার কারণে এই ইতিহাস মুছে ফেলা হয়েছে। এই কারণেই সৌরজগতের প্রাথমিক পর্যায়গুলি বোঝার ক্ষেত্রে চাঁদের মাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।



















