বীরভূমের রাজনৈতিক হিংসার এক ভয়াবহ ঘটনা হল বগটুই কাণ্ড (Bagtui Case)। দীর্ঘ তিন বছর ধরে মামলার বিচার চলছিল রামপুরহাট আদালতে। অবশেষে সেখান থেকে মামলা সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের আবেদনে সাড়া দিয়ে বিচারপতি অজয় মুখোপাধ্যায় বগটুই মামলার বিচার স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। এখন থেকে মামলার শুনানি হবে পূর্ব বর্ধমানের জেলা বিচারকের আদালতে।
সিবিআইয়ের অভিযোগ ছিল, বীরভূমে মামলার বিচার চলাকালীন সাক্ষীরা নিরাপদ পরিবেশে সাক্ষ্য দিতে পারছেন না। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চাপ ও ভয়ভীতির কারণে সাক্ষ্যপ্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে বলে আদালতে জানায় সংস্থা। সেই কারণেই বীরভূমের বাইরে যে কোনও আদালতে মামলার বিচার চেয়ে ২০২৫ সালে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সিবিআই।
হাইকোর্টে জমা পড়া এক মুখবন্ধ খামের রিপোর্টে অ্যাডিশনাল সেশন জজ (ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট) সিবিআইয়ের অভিযোগকে কার্যত সমর্থন করেন। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করেই আদালত মনে করে, মামলার নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে স্থানান্তর জরুরি। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সিবিআই যে আশঙ্কার কথা তুলেছে, তা যুক্তিসংগত এবং গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার দাবি রাখে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২১ মার্চ রাতে রামপুরহাট থানার অন্তর্গত ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের বগটুই মোড়ে বোমা হামলায় খুন হন স্থানীয় তৃণমূল নেতা ও বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন উপপ্রধান ভাদু শেখ। সেই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বগটুই গ্রামে একের পর এক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ভয়াবহ সেই অগ্নিসংযোগে অন্তত আট জনের মৃত্যু হয়, যা রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন ফেলে দেয়।
প্রথমে এই ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয় রাজ্য পুলিশের সিআইডিকে। তবে তদন্তের গতি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটি সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তারপর থেকেই বগটুই কাণ্ড রাজ্যের অন্যতম আলোচিত ও স্পর্শকাতর মামলায় পরিণত হয়েছে। এবার বিচার প্রক্রিয়া বীরভূমের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার ফলে মামলার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের।




















