টি-২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup) মানেই রোমাঞ্চ, অঘটন আর নাটক। আর ২০২৬ আসর যেন শুরু হওয়ার আগেই সেই প্রমাণ দিচ্ছে। বাংলাদেশের শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ানোর ঘটনায় হঠাৎ করেই বিশ্বকাপের টিকিট হাতে পেয়েছে স্কটল্যান্ড। কিন্তু আনন্দের এই সুযোগ পাওয়ার পরপরই নতুন করে সমস্যার মুখে পড়েছে ইউরোপের দল। বিশ্বকাপে খেলতে ভারতের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগেই ভিসা জটিলতা ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বিশ্বকাপের আগে অবসর নিয়ে ভক্তদের চমকে দিলেন তারকা পেসার
বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত আসে বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে। ফলে প্রস্তুতির সময় যেমন কম, তেমনি প্রশাসনিক কাজেও সময়ের তীব্র চাপ। বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র দশ দিন বাকি। এই সময়ের মধ্যে পুরো স্কোয়াডের ভারতীয় ভিসা নিশ্চিত করাই এখন স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন স্কটল্যান্ডের অভিজ্ঞ ফাস্ট বোলার সাফিয়ান শরীফ। ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এই পেসারের বাবা পাকিস্তানি এবং মা ব্রিটিশ-পাকিস্তানি। ভারত-পাক দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত অনেকের ক্ষেত্রেই ভারতীয় ভিসা পেতে জটিলতা দেখা যায়। সেই বাস্তবতায় শরীফের ভিসা পাওয়া নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।
শুধু নামের কারণেই নয়, মাঠের পারফরম্যান্সের দিক থেকেও সাফিয়ান শরীফ স্কটল্যান্ডের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় দলের হয়ে তিনি খেলেছেন ৯০টি ওয়ানডে ও ৭৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। দুই সংস্করণ মিলিয়ে তার উইকেট সংখ্যা ১৯৮। এমন একজন অভিজ্ঞ বোলারকে ছাড়া বিশ্বকাপে নামতে হলে স্কটল্যান্ডের শক্তি যে অনেকটাই কমে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।
ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ট্রুডি লিন্ডব্লাড জানিয়েছেন, ভিসা সমস্যা সমাধানে তারা আইসিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। তিনি জানিয়েছেন, “ভিসা নিয়ে অনিশ্চয়তা সবসময়ই থাকে—সময় বেশি থাকলেও, কম থাকলেও। গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল যত দ্রুত সম্ভব খেলোয়াড়দের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।”
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দলের কয়েকজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারের ভারতীয় ভিসা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যদিও পরে জানা যায় প্রক্রিয়াগত বিলম্ব। সেই উদাহরণ সামনে রেখে স্কটল্যান্ডও আশাবাদী, তাদের ক্ষেত্রেও শেষ পর্যন্ত সমস্যা কেটে যাবে।




















