কলকাতা: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। দিনক্ষণ (Bhabanipur)ঠিক না হলেও তৃণমূল-বিজেপি সহ অন্য রাজনৈতিক দল গুলিও তাদের স্ট্রাটেজি সাজাচ্ছে। এই আবহেই শুরু হয়ে গিয়েছে ওপিনিয়ন পোল এবং বিভিন্ন সমীক্ষা। তেমনই একটি সমীক্ষায় উঠে এল ভাবনীপুরের অবস্থান। ভবানীপুর মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কেন্দ্র হিসেবেই পরিচিত।
আসন্ন নির্বাচনে এই কেন্দ্রে কার পাল্লা ভারী তা নিয়েই চলছে এই সমীক্ষা। এই সমীক্ষা অনুসারে, ভবানীপুরে তৃণমূলের সমর্থন ৬৭ শতাংশ, বিজেপি ২৯ শতাংশ এবং অন্যান্য দলগুলো মাত্র ৪ শতাংশ। এই ফলাফল যদি সত্যি হয়, তাহলে মমতার ভবানীপুরে জয়ের পথ আরও সুগম হবে।ভবানীপুর কেন্দ্রটি কলকাতার দক্ষিণ অংশে অবস্থিত, যেখানে মধ্যবিত্ত এবং উচ্চমধ্যবিত্তের প্রভাব বেশি।
ISRO-তে চাকরির সুযোগ, মাসিক বেতন ২ লক্ষ, আবেদন করুন এই পদ্ধতিতে
২০১১ সাল থেকে মমতা এখান থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, যদিও ২০২১-এ নন্দীগ্রামে হেরে যাওয়ার পর ভবানীপুর থেকে উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী পদ ধরে রেখেছেন। সেই নির্বাচনে তৃণমূল ৫৭.৭১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, বিজেপি ৩৫.১৭ শতাংশ। এখন সাম্প্রতিক সমীক্ষায় তৃণমূলের সমর্থন বেড়ে ৬৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা মমতার জনপ্রিয়তা এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের সাফল্যকে নির্দেশ করে।
বিজেপি-র সমর্থন কমে ২৯ শতাংশে নেমেছে, যা দলের অভ্যন্তরীণ কলহ এবং স্থানীয় নেতৃত্বের দুর্বলতাকে তুলে ধরছে। অন্যান্য দলগুলোর ৪ শতাংশ ভোট শেয়ার কংগ্রেস বা বামফ্রন্টের মতো দলগুলোর জন্য হতাশাজনক, যারা এখানে খুব একটা প্রভাবশালী নয়।এই সমীক্ষার পেছনে কী কারণ? বিশ্লেষকরা বলছেন, মমতার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী এবং স্বাস্থ্য সাথী-র মতো প্রকল্পগুলো ভবানীপুরের মহিলা ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন তৈরি করেছে।
এছাড়া, কোভিড পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে রাজ্য সরকারের ভূমিকা এবং বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘বহিরাগত’ তকমা দেওয়ার কৌশল কাজ করছে। বিজেপি-র পক্ষে শুভেন্দু অধিকারী-র মতো নেতারা চেষ্টা করছেন, কিন্তু ভবানীপুরের মতো শহুরে কেন্দ্রে হিন্দুত্বের অ্যাজেন্ডা খুব একটা কাজ করছে না। সমীক্ষায় দেখা গেছে, যুবকদের মধ্যে তৃণমূলের সমর্থন বেশি।
এবার দেখা যাক রাজ্যের ছবিটা ঠিক কেমন। একটি সাম্প্রতিক ওপিনিয়ন পোলে তৃণমূলকে ৩৯.৬ শতাংশ ভোট শেয়ার দেওয়া হয়েছে, বিজেপি-কে ৩০.৫ শতাংশ। আরেকটি সমীক্ষায় তৃণমূল ১৪৫-১৫৮ সিট, বিজেপি ৯০-১০৫ সিট পেতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। বিজেপি-র পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছেন, দু’তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন তারা, কিন্তু সমীক্ষাগুলো তা সমর্থন করছে না। বাম-কংগ্রেস জোটের সমর্থন মাত্র ৭.৩ শতাংশ, যা তাদের মার্জিনাল করে তুলেছে।




















