
কলকাতা: অবশেষে বাঙালির মন বুঝল রেল কর্তৃপক্ষ। হাওড়া-গুয়াহাটি (কামাখ্যা) বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসে আমিষ খাবার চালুর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রক। সোমবার কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার জানান, তাঁর এবং রাজ্য বিজেপির অনুরোধেই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই ট্রেনের মেনুতে আমিষ খাবারের বিকল্প রাখতে রাজি হয়েছেন। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
কেন শুরু হয়েছিল ‘নিরামিষ’ বিতর্ক?
গত ১৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই অত্যাধুনিক ট্রেনের উদ্বোধন করেন। কিন্তু শুরুতেই ট্রেনের মেনু কার্ড থেকে আমিষ খাবার বাদ পড়ায় দানা বাঁধে তীব্র বিতর্ক। পশ্চিমবঙ্গ ও অসম, উভয় রাজ্যের প্রধান খাদ্যই হল মাছ ও মাংস। এমনকি গুয়াহাটির কামাখ্যা মন্দিরেও বলি এবং আমিষ প্রসাদের চল রয়েছে। এই আবহে ট্রেনে শুধু নিরামিষ চালুর সিদ্ধান্তকে বাঙালির ‘খাদ্যসংস্কৃতির ওপর আঘাত’ বলে সরব হয় তৃণমূল। পালটা বিজেপি দাবি করেছিল, ধর্মীয় স্থান সংযোগকারী রুটে নিরামিষের সাধারণ নীতির কারণেই এই পদক্ষেপ।
অস্বস্তিতে বিজেপি, আসরে সুকান্ত মজুমদার Vande Bharat Sleeper Non-Veg Food
বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাঙালির খাদ্যরুচি নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিল যুযুধান দুই শিবির। গত ২৩ জানুয়ারি রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও কার্যত এই দাবির সমর্থনে মুখ খোলেন। পরিস্থিতি বিচার করে তড়িঘড়ি রেলমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “তৃণমূল এই বিষয়টিকে নোংরা রাজনীতির হাতিয়ার করছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব আমিষ খাবার চালুর অনুরোধ করেছি।” রেল সূত্রে খবর, মাছ নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও মুরগির মাংস (Chicken) মেনুতে থাকা প্রায় নিশ্চিত।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: ‘ভোটের মুখে ভোলবদল’
বিজেপির এই পদক্ষেপকে কৃতিত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর দাবি, “নির্বাচনের চাপে এবং বাংলার প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়েই কেন্দ্র পিছু হটতে বাধ্য হলো। ভোট মিটলেই এরা আবার বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে আক্রমণ করবে।”
West Bengal: Indian Railways approves non-veg meals for Howrah-Guwahati Vande Bharat Sleeper Express. Following Sukanta Majumdar’s request, the menu will now include chicken to respect Bengali culture. Read about the political row between TMC and BJP over this.












