নয়াদিল্লি: বাংলাদেশে হিন্দু খুনে খবর হয়, প্রতিবাদ হয়। (Taslima Nasrin)মুসলিম খুনে কেন নজর নেই ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের। তারাও তো মানুষ। এমনটাই মন্তব্য করে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিতর্কিত সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন।
এক দীর্ঘ ও তীব্র ভাষার বক্তব্যে তসলিমা বলেন, “হিন্দু হত্যা হলে প্রতিবাদ হয়, খবর হয়। কিন্তু যারা হিন্দু নয় তারা কি মানুষ নয়? নাস্তিক, মানববাদী, মুক্তচিন্তকরা কি মানুষ নয়?” তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অগণিত মানুষ প্রতিদিন ঘৃণা ও হিংসার শিকার হচ্ছেন, কিন্তু ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সেই সমগ্র মানবিক সংকটকে তুলে ধরতে ব্যর্থ।
আনন্দপুরে গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত ৩, নিখোঁজ অন্তত ১৬
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন সাদ্দাম নামে এক যুবকের ঘটনার কথা। তসলিমার দাবি অনুযায়ী, ছাত্রলীগ করার অভিযোগে সাদ্দামকে জেলে পাঠানো হয়। সেই সময়ে তাঁর স্ত্রী ও সন্তান রহস্যজনকভাবে প্রাণ হারান। হয় আত্মহত্যা, নয়তো খুন। এই ভয়াবহ ঘটনার পরও, অভিযোগ অনুযায়ী, সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দিয়ে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য কারাগারের ফটকে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার অনুমতি দেওয়া হয়। তসলিমার প্রশ্ন এই বর্বরতার বিরুদ্ধে ভারতীয় মিডিয়া কি একবারও জোরালোভাবে আওয়াজ তুলেছে?
তসলিমা নাসরিনের অভিযোগ, বর্তমানে বাংলাদেশে পাকিস্তানপন্থী ও ধর্মান্ধ শক্তির উত্থান ঘটেছে, যারা ভারতবিরোধিতা, আওয়ামী বিরোধিতা এবং মুক্তচিন্তাবিরোধিতাকে উন্মাদের মতো চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া বহু প্রগতিশীল তরুণ-তরুণী ইসলাম ধর্মের অমানবিক দিকগুলির সমালোচনা করে বা ইসলাম ত্যাগ করে মানবতাবাদে বিশ্বাসী হওয়ায় প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়ছেন।
তিনি আরও বলেন, এই মানবতাবাদী ও যুক্তিবাদীরা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় পাননি; বরং নেপালের মতো দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তসলিমার ভাষায়, “বাঙালিরা বাংলায় আশ্রয় পায়নি, পেয়েছে বাংলার বাইরে।” তাঁর মতে, এটি শুধু রাজনৈতিক ব্যর্থতা নয়, এক গভীর মানবিক লজ্জা।
বক্তব্যে উঠে আসে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ। একসময়ের বাংলাদেশি ইমাম আবদুল্লাহ আল মাসুদ, যিনি ইসলাম ত্যাগ করে মানবতাবাদে বিশ্বাসী হন, তিনি বর্তমানে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কলকাতার কারাগারে বন্দি। তাঁর মুক্তির জন্য কতজন উদ্যোগ নিয়েছেন এই প্রশ্নও তুলেছেন তসলিমা। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে সহজেই বাংলাদেশ থেকে আসা ইসলামী মৌলবাদী বা জিহাদিদের খুঁজে পাওয়া যায়, কিন্তু যারা মানবতার পক্ষে সংগ্রাম করছেন তাঁদের জায়গা হয় না।
তসলিমা নাসরিন আরও দাবি করেন, তাঁকে নিজেকেও পশ্চিমবঙ্গ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। শেখ ফরিদ, ইমরান বশির, শাহাদাত রাসেল, এনামুল হকের মতো মানবতাবাদী, ইসলাম-ত্যাগী চিন্তাবিদদেরও পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় মেলেনি। তাঁর তীব্র অভিযোগ “আতঙ্কবাদীদের জায়গা হয়, মানবতাবাদীদের হয় না।”
তসলিমার এই মন্তব্য ঘিরে স্বভাবতই শুরু হয়েছে বিতর্ক। নেটিজেনদের মতে সম্প্রতি বাংলাদেশে হিন্দু হত্যা বেড়ে গিয়েছে এবং এমনও দেখা গিয়েছে সেদেশের সংবাদ মাধ্যম অনেক খবর চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। এমনকি দিপু দাসের মৃত্যুর উদাহরণ দিয়ে তারা বলেছেন যে দিপুকে প্রায় জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সবচেয়ে বড় কথা দিপুর ম্যানেজার নিজেই তাকে মৌলবাদীদের হাতে তুলে দিয়েছিল।
তা নিয়ে সেদেশে কোনও মুসলিম প্রতিবাদ করেছেন কি? তারপর থেকে ঘটে যাওয়া কোনও হিন্দু নিধনের ঘটনায় বাংলাদেশের কোনও মুসলিমকে দেখা যায়নি প্রতিবাদ করতে। তবে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তসলিমা যে ফের একবার বিতর্কের কেন্দ্রে তা বলাই বাহুল্য।




















