দক্ষিণ দিনাজপুরে চলতি SIR হিয়ারিং প্রক্রিয়াকে ঘিরে (South Dinajpur)নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল। জেলার কুশমণ্ডি কিষাণ মান্ডিতে আয়োজিত SIR হেয়ারিং ক্যাম্পে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় বিধায়ক রেখা রায় ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, অশালীন আচরণ এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও বিরোধী দলের অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট নিয়মনীতি উপেক্ষা করে তৃণমূল বিধায়ক ও তাঁর সঙ্গে থাকা একাধিক দলীয় নেতা আচমকাই হেয়ারিং ক্যাম্পে ঢুকে পড়েন। সেখানে উপস্থিত নির্বাচন সংক্রান্ত আধিকারিকদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলে। অভিযোগ, হুমকির সুরে কথা বলা হয় এবং পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে ক্যাম্পে উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়।
ড্রোন নয়, যেন একটি উড়ন্ত ব্রহ্মাস্ত্র! ইউরোপে সফল লাইভ ফ্লাইট ডেমোনস্ট্রেশন টাটার ALS-এর
এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে স্থানীয় বিজেপি কার্যকর্তাদের উপর তৃণমূলের বিধায়ক ও তাঁর দলবল চড়াও হন বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির দাবি, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া রক্ষার কথা বলতেই তাঁদের উপর আক্রমণাত্মক আচরণ করা হয়েছে। ঘটনার পরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র আকার নেয়।
বিরোধীদের মতে, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এই ধরনের আচরণ অসভ্য, অনৈতিক এবং গণতন্ত্রের পরিপন্থী। SIR হিয়ারিং এমন একটি সংবেদনশীল প্রক্রিয়া, যেখানে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সেখানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নির্বাচন ব্যবস্থার উপর সরাসরি আঘাত বলে দাবি তাঁদের।
উল্লেখযোগ্য যে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ এক মাইক্রো অবজার্ভারকে প্রকাশ্যে চড় মারার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনার অভিযোগ সামনে আসে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, প্রতিদিন SIR-এর সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের দুষ্কৃতী বাহিনীর লাগাতার হুমকি ও ভয় প্রদর্শনের অভিযোগ উঠে আসছে বলে দাবি বিরোধীদের।
আজকের ঘটনায় অভিযোগ আরও গুরুতর জোরপূর্বক হেয়ারিং ক্যাম্পে ঢুকে গোটা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। নির্বাচন সংক্রান্ত আধিকারিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দেওয়ার এই প্রবণতা রাজ্যের নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, এভাবে চলতে থাকলে মাঠপর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনা করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠবে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিরোধী শিবির নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনও রাজনৈতিক দল বা নেতা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে হস্তক্ষেপ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দক্ষিণ দিনাজপুরে SIR হেয়ারিংকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের আগুনে ঘি ঢালল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




















