এবার নির্বাচন কমিশনের SIR শুনানির নোটিশ পৌঁছল ফুরফুরা শরীফে

কলকাতা: ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীর হাতে এবার পৌঁছাল SIR (Furfura Sharif) শুনানির নোটিশ। নির্বাচন কমিশনের পাঠানো এই নোটিশ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক ও সংখ্যালঘু হেনস্থার অভিযোগে ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
furfura-sharif-sir-notice-toha-siddiqui

কলকাতা: ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীর হাতে এবার পৌঁছাল SIR (Furfura Sharif) শুনানির নোটিশ। নির্বাচন কমিশনের পাঠানো এই নোটিশ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক ও সংখ্যালঘু হেনস্থার অভিযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। ত্বহা সিদ্দিকী নিজেই এই নোটিশ পাওয়ার কথা প্রকাশ্যে জানান এবং বলেন, “SIR-র নাম করে কীভাবে মানুষকে বিরক্ত করা হয়, তার জ্বলন্ত প্রমাণ আমি নিজেই।”

ত্বহা সিদ্দিকীর দাবি, শুধু তাঁকেই নয়, তাঁর প্রয়াত বাবার নামেও নাকি শুনানির নোটিশ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। “আমার আব্বা বহু আগেই মারা গিয়েছেন, তবুও শুনছি তাঁর নামেও নোটিশ আসবে,” এই মন্তব্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, SIR-র আড়ালে পরিকল্পিতভাবে বাংলার সংখ্যালঘু মুসলমানদের নিশানা করা হচ্ছে।

   

২৮ বছর পর গেরুয়া শিবিরের মহারাষ্ট্র জয়ের নেপথ্যে বাঙালি নেত্রী

ফুরফুরা পঞ্চায়েত এলাকার পরিসংখ্যান তুলে ধরে ত্বহা সিদ্দিকী জানান, সেখানে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। তার মধ্যে ৭ হাজার মানুষের কাছে SIR শুনানির নোটিশ পৌঁছেছে। আশ্চর্যের বিষয়, এই ৭ হাজারের মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৮৫০ জনই মুসলমান।

তাঁর দাবি, শুধু ফুরফুরা নয়, সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়েই যেখানে SIR নোটিশ যাচ্ছে, সেখানে সংখ্যালঘু মুসলমানদের সংখ্যাই বেশি। এই তথ্য সামনে এনে তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।

ত্বহা সিদ্দিকীর আরও অভিযোগ, “SIR পুরোপুরি বিজেপির ইন্ধনে করা হচ্ছে। বিজেপির মাথায় ঢুকেছে, পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানরা তৃণমূলকে ভোট দেবে। তাই মুসলমান ভোট কীভাবে বাদ দেওয়া যায়, সেই চক্রান্ত চলছে।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বাংলার একটা মুসলমানের নামও ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে না। আমরা ভারতবর্ষের নাগরিক, এখানেই আমাদের বসবাস।”

শুধু মুসলমানরাই নয়, ত্বহা সিদ্দিকীর দাবি অনুযায়ী, ফুরফুরা এলাকায় প্রায় দেড়শো হিন্দু পরিবারও SIR নোটিশ পেয়েছে। তাঁর অভিযোগ, “ওরাও তৃণমূলকে ভোট দেয় বলেই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ যারা তৃণমূলকে ভোট দেবে, তাদেরই SIR-এর নোটিশ পাঠাও এটাই পুরো চক্রান্ত।” এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছে।

এই আবহেই ফুরফুরা শরীফের আর এক পীরজাদা, সাফেরি সিদ্দিকির নেতৃত্বে আসন্ন এক বড় কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজন করা হবে ‘লক্ষ কণ্ঠে সংবিধান পাঠ’। এই কর্মসূচিতে ফুরফুরা শরীফের পীরজাদাদের একাংশ, বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেই ব্রিগেডে ‘লক্ষ কণ্ঠে পাঠ’-এর নজির রয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে ‘৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল সনাতন সংস্কৃতি সংসদ। সেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এমনকি ২০২৩ সালেও একই উদ্যোগে ব্রিগেডে গীতাপাঠ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

তবে ‘লক্ষ কণ্ঠে সংবিধান পাঠ’ এই প্রথম। সাফেরি সিদ্দিকি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “আমরা গীতাপাঠের পালটা হিসেবে এটা করছি না। প্রত্যেকেরই নিজের ধর্ম পালনের অধিকার আছে। আমরা হিংসা বাড়াতে চাই না।” তাঁর বক্তব্য, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য সংবিধান রক্ষা।

“রাজনৈতিক দলের নেতারা নিজেদের স্বার্থে সংবিধানের বিকৃতি ঘটাচ্ছেন। আগামী দিনে যাতে এটা না হয়, সেই কারণেই আমরা লক্ষ কণ্ঠে সংবিধান পাঠ করব,” বলেছেন তিনি। সব মিলিয়ে, SIR নোটিশ, সংখ্যালঘু হেনস্থার অভিযোগ এবং ব্রিগেডের আসন্ন কর্মসূচি এই তিনটি বিষয় মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google