কোচবিহারে নির্মীয়মান রাম মন্দিরের বালি-পাথর বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ

কোচবিহার: উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলার সিতাই (Sitai)বিধানসভার মহেশপাট এলাকায় রামমন্দির নির্মাণকে কেন্দ্র করে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ, রামমন্দির নির্মাণের প্রস্তুতি চলাকালীন গভীর রাতে রাজ্য প্রশাসনের ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
sitai-cooch-behar-ram-mandir-construction

কোচবিহার: উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলার সিতাই (Sitai)বিধানসভার মহেশপাট এলাকায় রামমন্দির নির্মাণকে কেন্দ্র করে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ, রামমন্দির নির্মাণের প্রস্তুতি চলাকালীন গভীর রাতে রাজ্য প্রশাসনের তরফে বালি, পাথর, ইট, রড ও সিমেন্টসহ সমস্ত নির্মাণ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই নির্মিত স্তম্ভগুলি জেসিবি দিয়ে ভেঙে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি শাসক তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে।

বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দু’বছর আগে ওই এলাকায় রামমন্দির নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক। স্থানীয় রামমন্দির কমিটির উদ্যোগে সম্প্রতি মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। সেই সময়েই প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

   

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু অধিনায়কের প্রসঙ্গে টেনে উল্টো সুর এই নেতার

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, কোনও রকম আগাম নোটিস না দিয়েই রাতের অন্ধকারে নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসনের এই আচরণ স্বচ্ছতার পরিপন্থী এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। বিজেপির একাংশের প্রশ্ন, যদি ওই জমি সরকারি হয় এবং সেখানে মন্দির নির্মাণ বেআইনি হয়, তা হলে দুই বছর আগে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় প্রশাসন কেন কোনও আপত্তি তোলেনি?

এ নিয়ে আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে স্থানীয় জমি সংক্রান্ত অভিযোগ ঘিরে। বিজেপির দাবি, রামমন্দিরের প্রস্তাবিত স্থানের আশপাশে সরকারি জমিতে অনুপ্রবেশ করে বহু মানুষ বাড়ি ও দোকান নির্মাণ করেছেন, কিন্তু প্রশাসন তাদের উচ্ছেদে কোনও তৎপরতা দেখায়নি। অথচ মন্দির নির্মাণের ক্ষেত্রেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যদিও দাবি করা হয়েছে, সরকারি জমিতে কোনও ধরনের স্থায়ী ধর্মীয় নির্মাণ অনুমোদন ছাড়া করা যায় না। প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম বা মন্দিরকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপ করা হয়নি। প্রশাসনের দাবি, জমির চরিত্র ও আইনি নথি যাচাই করেই সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে বিজেপি আরও একটি প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য সরকার যদি সরকারি জমিতে সরকারি অর্থ ব্যয়ে জগন্নাথ ধাম নির্মাণ করতে পারে, তা হলে সাধারণ মানুষের অনুদানে নির্মিত একটি রামমন্দিরে আপত্তি কোথায়? বিজেপির মতে, এই দ্বৈত মানদণ্ডই রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলেও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য এবং কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গে যখন শাসক দল ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে, তখন এই ঘটনা আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের আগে ধর্মীয় ও জমি সংক্রান্ত বিষয়গুলি রাজনৈতিক বিতর্কে বাড়তি রসদ জোগাচ্ছে। রামমন্দির নির্মাণ নিয়ে এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, প্রশাসন ও মন্দির কমিটির মধ্যে কোনও সমাধানসূত্র বের হয় কি না সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মহল।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google