খালিদের জামিন খারিজ! JNU তে মোদী-শাহের কবর খোঁড়ার হুমকি

নয়াদিল্লি: জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে (Umar Khalid)। ২০১৬ সালের সেই ভয়াবহ ঘটনার ঠিক দশ বছর পর, ক্যাম্পাসে নতুন করে উঠে এলো বিতর্কিত নারা। সুপ্রিম কোর্ট ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
umar-khalid-bail-rejected-jnu

নয়াদিল্লি: জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে (Umar Khalid)। ২০১৬ সালের সেই ভয়াবহ ঘটনার ঠিক দশ বছর পর, ক্যাম্পাসে নতুন করে উঠে এলো বিতর্কিত নারা। সুপ্রিম কোর্ট উমর খালিদ এবং শর্জিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ করার পরই, সোমবার রাতে জেএনইউ-তে একটি প্রতিবাদ সমাবেশে ছাত্ররা চিৎকার করে উঠলেন: “মোদি-শাহ কি কবর খুঁড়বে, জেএনইউ কি ধরতী পর”।

এই নারা শুনে দেশজুড়ে ফের শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। বিজেপি নেতারা একে ‘দেশবিরোধী’ এবং ‘আরবান নকশাল’দের কাজ বলে অভিহিত করেছেন, অন্যদিকে ছাত্র সংগঠনগুলো দাবি করছে এটি তাদের আদর্শগত প্রতিবাদের অংশ।২০১৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জেএনইউ ক্যাম্পাসে আফজল গুরুর ফাঁসির বার্ষিকীতে একটি অনুষ্ঠানে ‘ভারত তেরে টুকড়ে হোঙ্গে’ জাতীয় নারা উঠেছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

   

মন্দিরে ধর্মীয় আচার পালনে ছাড়পত্র, হাইকোর্টের ধাক্কা ডিএমকে সরকারের

সেই ঘটনা দেশজুড়ে ঝড় তুলেছিল। কানহাইয়া কুমার, উমর খালিদের মতো ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর অবস্থান নিলেও শেষ পর্যন্ত বড় কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হয়নি। সেই স্মৃতি এখনও তাজা, আর ঠিক দশ বছর পর ফের একই ধরনের বিতর্কিত নারা। এবারের প্রতিবাদটি হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর।

২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার ষড়যন্ত্র মামলায় উমর খালিদ এবং শর্জিল ইমামের জামিন খারিজ হতেই জেএনইউ-তে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে প্রতিবাদ শুরু হয়। ডিএসএফ, এআইএসএ এবং এসএফআই-এর মতো সংগঠনের সদস্যরা সাবরমতী হোস্টেলের বাইরে এবং ‘গেরিলা ধাবা’র কাছে জমায়েত হন। সেখানেই উঠে আসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে এই মর্মান্তিক নারা।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৩০-৪০ জন ছাত্র-ছাত্রী একসঙ্গে চিৎকার করছেন। জেএনইউ ছাত্র সংঘের দু’জন সিনিয়র নেতা যুগ্ম সচিব দানিশ এবং সচিব সুনীল সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে সূত্রের খবর। এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে। বিজেপি মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা একে ‘টুকড়ে-টুকড়ে গ্যাং’-এর কাজ বলে সমালোচনা করেছেন।

দিল্লির মন্ত্রী কপিল মিশ্র বলেছেন, এটি নকশাল এবং সন্ত্রাসবাদীদের সমর্থকদের ‘হতাশা’। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং তো সরাসরি দাবি করেছেন, এর জন্য রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা উচিত। অন্যদিকে জেএনইউ ছাত্র সংঘের সভানেত্রী আদিতি মিশ্র জানিয়েছেন, প্রতি বছর ৫ জানুয়ারি ২০২০-র ক্যাম্পাস হিংসার প্রতিবাদে এই সমাবেশ হয়। তাঁর দাবি, নারাগুলো আদর্শগত এবং কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google