বর্ষবরণের রাতে দুঃস্বপ্ন হয়ে এল ভূমিকম্প

বর্ষবরণের ঠিক আগেই শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান (Earthquake)। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৬। বুধবার বিকেলে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয় পূর্ব জাপানের নোডা অঞ্চলে। এখনও পর্যন্ত কোনও ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
earthquake-in-japan-before-new-year

বর্ষবরণের ঠিক আগেই শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান (Earthquake)। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৬। বুধবার বিকেলে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয় পূর্ব জাপানের নোডা অঞ্চলে। এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়নি। তবে নতুন বছর শুরু হওয়ার মুহূর্তে এমন ভূমিকম্প জাপানবাসীর উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

ভারত যখন এখনও নতুন বছরের অপেক্ষায়, ঠিক তখনই জাপানে শুরু হয়ে গিয়েছে নতুন বছর। কিন্তু উৎসবের আনন্দের মধ্যেই প্রকৃতির এই আচমকা রুদ্ররূপ আতঙ্ক ছড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে। জাপানের আবহাওয়া ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইওয়াতে প্রদেশের হনশু দ্বীপের কাছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ৪০ কিলোমিটার গভীরতা থেকে এই কম্পনের উৎপত্তি। নোডা থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরবর্তী এলাকাতেও কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে।

   

কৃষিতে রেড লাইন! এফটিএতে নয়া কৌশল ভারতের

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ায় এমন কম্পন নতুন কিছু নয়। জাপান পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্প-সংবেদনশীল দেশ। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’-এর মধ্যেই অবস্থান জাপানের। মাটির নীচে একাধিক টেকটোনিক প্লেট সক্রিয় থাকায় এখানে প্রতি পাঁচ মিনিট অন্তর হালকা কম্পন অনুভূত হয় বলে দাবি বিজ্ঞানীদের। গোটা বিশ্বে ৬ বা তার বেশি তীব্রতার ভূমিকম্পের প্রায় ২০ শতাংশই ঘটে জাপানে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, যে এলাকায় বুধবার ভূমিকম্প হয়েছে, সেখানে কয়েকদিন আগেই ৪.৮ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছিল। এর আগে গত ৮ ডিসেম্বর আওমোরি অঞ্চলে ৭.৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৫২ জন আহত হন। তার পর একাধিক আফটারশক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ফলে পরপর ভূমিকম্পের জেরে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক বাড়ছে।

জাপান সরকার ও বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে দেশের উত্তরের হোক্কাইদো দ্বীপকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, সেখানে ৭ থেকে ৯ মাত্রার বা তারও বেশি তীব্রতার ভূমিকম্প আছড়ে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সুনামি সৃষ্টি হলে ঢেউয়ের উচ্চতা ২০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। জাপান সাগরের উপকূলবর্তী ৩৩টি পুরসভার প্রায় ৭,৫০০ বাসিন্দার প্রাণহানির আশঙ্কাও করা হয়েছে।

গবেষণায় উঠে এসেছে আরও ভয়াবহ তথ্য। জাপানের উপকূলের বিপরীতে থাকা চিশিমা পরিখার নীচে প্রশান্ত মহাসাগরীয় টেকটোনিক প্লেট ঢুকে রয়েছে নর্থ আমেরিকান প্লেটের নীচে। এর ফলে প্রায় ২,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি চ্যুতিরেখা তৈরি হয়েছে। এই রেখায় সামান্য নড়াচড়া হলেই ভূমিকম্পের তীব্রতা রিখটার স্কেলে ৯ ছুঁতে পারে বলে আশঙ্কা।

এছাড়াও হোক্কাইদোর পূর্বে অবস্থিত কুরিল-কামচাটকা পরিখাও বড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রায় ৪০০ বছর আগে সেখানে তীব্র ভূমিকম্পে স্থলভাগের দিকে টেকটোনিক প্লেট ২৫ মিটার সরে আসে। বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ৮ সেন্টিমিটার হারে এই প্লেট সরে এলেও ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এই সম্ভাব্য বিপর্যয়ের কথা মাথায় রেখে জাপান সরকার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। তোহোকু ইউনিভার্সিটি, হোক্কাইদো ইউনিভার্সিটি এবং জাপানের মেরিন-আর্থ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সংস্থা সমুদ্রগর্ভে GPS পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে সমুদ্রতলের নড়াচড়ার উপর লাগাতার নজর রাখা হচ্ছে।

তোহোকু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ফুমিয়াকি তোমিতা জানিয়েছেন, “পরপর মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ায় আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিকল্পনা অনুযায়ী নজরদারি ও প্রস্তুতি বজায় রাখাই সবচেয়ে জরুরি।” বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য ‘মেগাকোয়েক’ নিয়ে ভয় না ছড়িয়ে সচেতনতা ও প্রস্তুতির উপর জোর দেওয়াই এখন জাপানের মূল লক্ষ্য।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.