টানা সাত দিন বাজার বনধের ডাক দিয়ে মাওবাদী পোস্টার ঘিরে আতঙ্কের দিন শুরু পশ্চিম মেদিনীপুরের পিড়াকাটা বাজারে। আগামী কয়েকটা দিন এই রেশ চলবে। এলাকাবাসীদের ভয়, ফের সেই মাও হামলা হতে পারে।
পিড়াকাটা মাওবাদী হামলায় বারবার রত্তাক্ত হয়েছে। বাম জমানায় মাও হামলায় সিপিআইএম নেতা কর্মীদের খুন হওয়া ছিল নিত্য বিষয়। পরে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর মাওবাদী কমান্ডার কিষেনজিকে খতম করা হয়। পিড়াকাটা বাজারে মাওবাদী পোস্টারে কিষেণজির বদলা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।সেই সঙ্গে স্থানীয় টিএমসি নেতাদের সঙ্গে খেলার ডাক দেওয়া হয়েছে।
এদিকে জেলার শালবনী ব্লকের পিড়াকাটায় বাজার বনধ ও তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে খেলার হুমকি দিয়ে মাওবাদী পোস্টার পড়তেই মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, একটা-দুটো পোস্টার বিজেপি লাগিয়ে দিয়েছে। আর তা নিয়ে কোনও কোনও টিভি চ্যানেল মাওবাদী-মাওবাদী বলে রাজনীতি করছে। মানুষের মধ্যে ভয় ঢোকাচ্ছে। তিনি ঝাড়খন্ড থেকে মাওবাদীদের প্রবেশের আশঙ্কা করেন।
জঙ্গলমহলের পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম জেলায় চলছে তল্লাশি। টানা ১৫ দিন চলবে এই অভিযান। জাতীয় ও রাজ্য সড়কের উপর নিরাপত্তারক্ষীরা যাত্রীদের তল্লাশি করছেন।
জীবনের ভয়ে কাঁপতে থাকা তৃ়নমূল কংগ্রেস নেতারা বলছেন মাওবাদী পোস্টার বিজেপির ফুটো মস্তানদের কাজ। তবুও নিরাপত্তার কারণে টিএমসি নেতারা এলাকায় রাতে থাকছেন না। বিজেপিরও একই অবস্থা।
ক্ষমতা হারানোর পর জঙ্গলমহলে জনভিত্তি হারিয়েছে সিপিআইএম। লোকসভা, বিধানসভা পরপর ভরাডুবি হয় সিপিআইএমের। তবে দলের দাপুটে নেতা সুশান্ত ঘোষ সক্রিয় হতেই জঙ্গলমহলে সিপিআইএম ফের শক্তি দেখাচ্ছে। বাম আমলে মাওবাদী হামলায় রক্তাক্ত সিপিআইএমের নেতারা সতর্ক আছেন। মাওবাদী হামলায় বারবার রক্তাক্ত হয়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের পিড়াকাটা। তখন সিপিআইএম নেতারা ছিলেন এলাকাছাড়া।
পিড়াকাটায় মাও পোস্টারে টিএমসি নেতারা দিনে কিছু রাজনৈতিক কর্মসূচি হলেও বিকেলের পর থেকে সব বন্ধ। মাওবাদী পোস্টারকে বিজেপির ফুটো মস্তানদের কাজ বললেও তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা ভয়ে কাঁটা। পোস্টারে টানা সাতদিন পিড়াকাটা বাজার বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে।




















