ফের ব্রাত্য বাংলা: প্রজাতন্ত্র দিবসে ‘মনীষীদের’ ট্যাবলোয় ছাড়পত্র দিল না কেন্দ্র

ছাব্বিশের আসন্ন প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজধানীর রাজপথে ফের দেখা মিলবে না বাংলার ট্যাবলোর। টানা আরও একবার কেন্দ্রীয় অনুমোদন না মেলায় জাতীয় মঞ্চ থেকে বাদ পড়ল রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
West Bengal tableau rejected

ছাব্বিশের আসন্ন প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজধানীর রাজপথে ফের দেখা মিলবে না বাংলার ট্যাবলোর। টানা আরও একবার কেন্দ্রীয় অনুমোদন না মেলায় জাতীয় মঞ্চ থেকে বাদ পড়ল রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক প্রতিনিধিত্ব। প্রশ্ন উঠছে, ঠিক কোন যুক্তিতে বাংলার ট্যাবলোকে অযোগ্য বলে চিহ্নিত করল মোদী সরকার?

স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার অবদান

তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্য সরকার একটি বিশেষ ট্যাবলো পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সেই ট্যাবলোর মূল ভাবনায় ছিল স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার অবদান—বিপ্লবী, চিন্তাবিদ ও মনীষীদের স্মরণে নির্মিত এক ঐতিহাসিক ন্যারেটিভ। সর্বভারতীয় মঞ্চে বাংলার রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের পুনর্উপস্থাপনই ছিল সেই ট্যাবলোর লক্ষ্য। কিন্তু সেই ভাবনাকেই শেষ পর্যন্ত ছাড়পত্র দিল না কেন্দ্র।

   

উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রজাতন্ত্র দিবসের ট্যাবলোর সামগ্রিক থিম নির্ধারণ করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সেই থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজ্যগুলি নিজেদের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ পায়। তৃণমূলের দাবি, এ বছর বাংলার ট্যাবলো নিয়ে তিন দফায় বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে বৈঠক হয়। প্রয়োজনীয় সংশোধনও করা হয়। তবুও শেষ মুহূর্তে এসে বাতিল করে দেওয়া হয় রাজ্যের প্রস্তাব।

মালা রায়ের প্রতিক্রিয়া

এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মালা রায়। তাঁর কথায়, “এটা শুধু ট্যাবলো বাতিল নয়, বাংলার মনীষীদের প্রতি অপমান। যাঁদের ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করা হয়, আজ তাঁদের নিয়েই তৈরি ট্যাবলো বাতিল করা হল। কেন্দ্র মনীষীদের নামে ট্যাবলো চায়, অথচ বাংলার মনীষীদের ট্যাবলো অনুমোদন পায় না—এ কেমন দ্বিচারিতা? বাংলার সঙ্গে এমন অসম্মান আগে কখনও হয়নি। বিজেপিই এই রাজনীতির সূচনা করেছে।”

বাংলার ট্যাবলো বাদ পড়ার প্রবণতা

এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিজেপির তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত নয়। পরপর কয়েক বছর ধরে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেড থেকে বাংলার ট্যাবলো বাদ পড়ার একটি নির্দিষ্ট প্রবণতা স্পষ্ট। ২০২০, ২০২২ এবং গত বছর—প্রতিবারই কেন্দ্রীয় অনুমোদনের দেওয়ালে আটকে গিয়েছে রাজ্যের প্রস্তাব। এবারও সেই ধারা অব্যাহত রইল।

তৃণমূলের অভিযোগ, জাতীয় উৎসবের মতো মঞ্চেও বাংলা বারবার ‘ব্রাত্য’ হচ্ছে। সাংস্কৃতিক বা কারিগরি নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক বৈষম্য ও কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিসন্ধি—এমনটাই দাবি শাসকদলের।

প্রজাতন্ত্র দিবস যেখানে দেশের বৈচিত্র্য ও ঐক্যের প্রতীক, সেখানে একাধিকবার একটি রাজ্যের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নতুন করে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল—রাজনৈতিক মহলের অভিমত।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google