কিষাণগঞ্জে সেনা ছাউনি তৈরির প্রতিবাদে AIMIM বিধায়ক

শিলিগুড়ি: বিহারের কিষাণগঞ্জ জেলায় প্রস্তাবিত ভারতীয় সেনা ছাউনি (AIMIM protest)নির্মাণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই ছাউনি তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে শিলিগুড়ি করিডর ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
kishanganj-army-cantonment-aimim-protest

শিলিগুড়ি: বিহারের কিষাণগঞ্জ জেলায় প্রস্তাবিত ভারতীয় সেনা ছাউনি (AIMIM protest)নির্মাণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই ছাউনি তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে শিলিগুড়ি করিডর যা ‘চিকেন’স নেক’ নামে পরিচিত। এই করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করে এবং ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।

কিন্তু অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর বিধায়ক তৌফিক আলম এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে বলেছেন, তিনি কোনওভাবেই এটি হতে দেবেন না। এই ঘোষণা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং জাতীয় সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।সম্প্রতি একটি ভিডিওতে তৌফিক আলমকে দেখা যায়, যেখানে তিনি বলছেন, “আর্মি ক্যাম্প তৈরি হচ্ছে। আমরা তার পক্ষে নই।

   

কৃষকদের আয় বাড়াবে এই সরকারি স্কিমগুলি, আবেদন করুন এখনই

জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, যা কৃষকদের। আমরা সেখানে আর্মি ক্যাম্প তৈরি হতে দেব না।” এই বক্তব্যটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ ভাইরাল হয়েছে, যেখানে অনেকে এটিকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে খেলা বলে সমালোচনা করেছেন। কিষাণগঞ্জ বিহারের একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা, এবং এআইএমআইএম-এর সেখানে শক্তিশালী ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে।

তৌফিক আলম কোচাদহমান বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত বিধায়ক, এবং তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করছেন।সিলিগুড়ি করিডরের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। এটি মাত্র ২০-৩০ কিলোমিটার চওড়া একটি সরু ভূমি, যা ভারতকে চীন, নেপাল এবং ভুটানের সীমান্তের কাছে নিয়ে যায়।

চীনের সঙ্গে চলতে থাকা সীমান্ত বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই এলাকার সুরক্ষা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতীয় সেনা এখানে ছাউনি তৈরির মাধ্যমে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল মোতায়েন করতে চায়, যাতে কোনও আক্রমণের মোকাবিলা করা যায়।

কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে যে, এই পরিকল্পনা জাতীয় নিরাপত্তার অংশ, এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু তৌফিক আলমের বিরোধিতা এই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। তিনি দাবি করছেন যে, জমি কৃষকদের, এবং এই ছাউনি স্থানীয়দের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলবে।

এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিজেপি নেতারা তৌফিক আলমের বক্তব্যকে ‘দেশবিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিহারের বিজেপি নেতা সম্রাট চৌধুরী বলেছেন, “জাতীয় সুরক্ষা কোনও ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিষয় নয়।

একজন বিধায়কের অনুমতি নিয়ে কি সেনা চলবে?” সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে প্রশ্ন তুলছেন একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি কীভাবে জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রকল্পে বাধা দিতে পারেন? এআইএমআইএম নেতা আসাদুদ্দিন ওয়াইসি এখনও এ বিষয়ে মুখ খোলেননি, কিন্তু দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, স্থানীয়দের অধিকার রক্ষা করা তাঁদের দায়িত্ব।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google