সুকমাতে আচমকা IED বিস্ফোরণে ঘটে গেল বিপদ

ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলার গভীর জঙ্গল যেখানে প্রতিটি পা ফেলার আগে আশঙ্কা থেকে যায়, সেখানে বৃহস্পতিবার ফের নকশাল হামলার ছায়া ঘনিয়ে এল। দুপুর প্রায় ১টা ৩০ মিনিট। এলাকায় আধিপত্য ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
sukma-woman-constable-injured-ied-blast-gogunda-search-operation

ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলার গভীর জঙ্গল যেখানে প্রতিটি পা ফেলার আগে আশঙ্কা থেকে যায়, সেখানে বৃহস্পতিবার ফের নকশাল হামলার ছায়া ঘনিয়ে এল। দুপুর প্রায় ১টা ৩০ মিনিট। এলাকায় আধিপত্য কায়েম রাখতে নিয়মিত টহল চালাচ্ছিল জেলা পুলিশ বাহিনীর একটি বিশেষ দল। সেই সময় গোগুন্ডার পাহাড়ি জঙ্গলাঞ্চলে আচমকাই ঘটে গেল শক্তিশালী আইইডি বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হলেন বাহিনীর এক মহিলা কনস্টেবল।

ঘটনাটি ঘটেছে ফুলবাগডি থানার অধিক্ষেত্রে। পুলিশের বক্তব্য, টহলদলের সদস্যরা জঙ্গলের ঢাল বেয়ে এগোচ্ছিলেন, তখনই রাস্তার ধারে পুঁতে রাখা বিস্ফোরক ফেটে যায়। বিস্ফোরণের শব্দে চারপাশের পাহাড়ি এলাকা কেঁপে ওঠে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ধুলোয় ঢেকে যায় চারদিক, আর সেই বিশৃঙ্খলার মাঝেই চিৎকার শুনতে পান দলটির সদস্যরা আহত মহিলা কনস্টেবল মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন।

   

ভিনগ্রহীদের অস্তিত্ব খুঁজতে ৩০ মিটার বড় টেলিস্কোপ তৈরি করছে ভারত-জাপান

দলের অন্যান্য সদস্যরা দ্রুত তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। বিস্ফোরণের অভিঘাতে তাঁর পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর দ্রুততার সঙ্গে পরবর্তী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাঁকে রায়পুরে এয়ারলিফট করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা ট্রানজিটের সময় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এদিকে, ঘটনার পরই পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘিরে ফেলে জঙ্গলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। শুরু হয় ব্যাপক combing operation। বিস্ফোরণের উৎস খুঁজে বের করা, এলাকায় আরও বিস্ফোরক পোঁতা আছে কি না তা নিশ্চিত করা—সবকিছুই চলে সমান্তরালে।

সুকমার পুলিশ সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, “ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় তীব্র অনুসন্ধান অভিযান চালাচ্ছে। ফুলবাগডি থানার নেতৃত্বে গোটা অপারেশন পরিচালিত হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত মাওবাদীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

গোগুন্ডা এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই নকশাল কার্যকলাপের কারণে পুলিশের নজরদারিতে। নিয়মিত সশস্ত্র টহল, আধিপত্য অভিযান, পথ খোঁজা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ সবই চলছে এখানে। কারণ এই এলাকা বারবার নকশালদের আইইডি হামলা, ওত পেতে থাকা অ্যামবুশ এবং হানাদারির সাক্ষী হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতিমধ্যে মাওবাদী সন্ত্রাস নির্মূলের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে দেশে নকশালবাদের অবসান ঘটানোর লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন। সেই মিশন জোরদার করতে মাঠে নেমেছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা বাহিনী। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বড় সাফল্যও এসেছে।

মাত্র কয়েকদিন আগেই অন্ধ্রপ্রদেশের আল্লুরি সীতারাম রাজু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী গুলিতে মারা পড়েছে দুর্ধর্ষ মাওবাদী কমান্ডার মদভি হিদমা—যিনি গত এক দশকেরও বেশি সময়ে নিরাপত্তা বাহীনির ওপর প্রায় ২৬টি বড় হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এই এনকাউন্টারে তাঁর স্ত্রী সহ মোট ছয়জন মাওবাদী নিহত হয়।

এই সাফল্যগুলির মধ্যেই গোগুন্ডার বিস্ফোরণ আবারও মনে করিয়ে দিল, নকশালবাদের শেষ লড়াই এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। এখনও নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রতিটি মুহূর্তে সজাগ থাকতে হচ্ছে। প্রতিটি অভিযানই অজানা ঝুঁকিতে ভরা। আর সেসব ঝুঁকির সামনে দাঁড়িয়ে যারা দিনরাত সেবা করছেন, সেই পুলিশ-বাহিনীর সদস্যদের সাহসই দেশের আশার আলো।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google