ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের মধ্যে এবারও কোনো সমাধান মিলল না। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধি দল কলকাতায় এসেও তিস্তা প্রসঙ্গে কথা এড়িয়ে গেল। ৬ ও ৭ মার্চ কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে তিস্তা ও গঙ্গার জলবণ্টন নিয়ে আলোচনার কথা থাকলেও তিস্তা নিয়ে কোনো কথাই হল না। বৈঠকে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি, রাজ্য সরকারের সেচ ও জনশক্তি দফতরের সচিব এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল অংশ নেন।
ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ নদী কমিশনের (জেআরসি) সদস্য মুহাম্মদ আবুল হোসেন, ফারাক্কা ব্যারেজ পরিদর্শনের পর কলকাতায় আসেন। ১১ সদস্যের এই দল মহানন্দা নদীর উপর বাঁধের কারণে বাংলাদেশের কয়েকটি নদীতে জল কমছে বলে উল্লেখ করেন। তবে রাজ্য সরকার সূত্র জানায়, মহানন্দার জলপ্রবাহ রাজ্যের অভ্যন্তরে অন্তর্মুখী এবং প্রবাহ পরিবর্তন হলে তা রাজ্যের দিকেই প্রভাব ফেলবে, বাংলাদেশের দিকে নয়। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
হাসিনা সরকারের আমলে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ থাকলেও তিস্তা চুক্তি সফল হয়নি। এবার ইউনূসের সরকার কিছু করতে পারে কিনা, সেই আশায় ছিল আলোচনা। কিন্তু তিস্তা নিয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা বিরাজ করছে। বৈঠকে জলবণ্টনের পাশাপাশি দূষণ নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের নদী তীরে চিনিকলের কারণে দূষণ বাড়ছে, যা রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় ছড়াচ্ছে বলে উঠে আসে। বাংলাদেশ প্রতিনিধিরা এটি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে তিস্তা প্রসঙ্গে নীরবতা প্রশ্ন তুলেছে—ইউনূসের সরকার কি হাসিনার পথেই হাঁটছে?




















