ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতির অঙ্গনে ফের সরগরম পরিবেশ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (Volodymyr Zelenskyy) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন, আসন্ন সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের (Vladimir Putin) সঙ্গে মোদির নির্ধারিত বৈঠকের প্রেক্ষিতে। দুই নেতার আলোচনায় মূলত ইউক্রেন যুদ্ধের মানবিক সংকট, শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়গুলি উঠে আসে।
মোদী সামাজিক মাধ্যমে বলেন, “আজ প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ফোনকলের জন্য ধন্যবাদ জানাই। ইউক্রেন সংঘাতের পরিস্থিতি, মানবিক দিক এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা নিয়ে আমরা মতবিনিময় করেছি। ভারত এ বিষয়ে সমস্ত উদ্যোগকে পূর্ণ সমর্থন জানায়।” অন্যদিকে, জেলেনস্কি জানান, সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনার বিষয় মোদির সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের আলাপচারিতা ছিল ফলপ্রসূ ও গুরুত্বপূর্ণ। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইউক্রেন সর্বদা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।”
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে শুরু হওয়া ইউক্রেন যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। মোদী ও জেলেনস্কির এই আলোচনা গত কয়েক সপ্তাহে তাঁদের দ্বিতীয় সরাসরি কথোপকথন। এর আগে ১১ আগস্ট জেলেনস্কি মোদিকে ফোন করেছিলেন, যা তিন দিন আগে মোদী-পুতিন কথোপকথনের পর হয়েছিল। এবার মোদীর সঙ্গে পুতিনের বৈঠক হবে সোমবার, চীনের তিয়ানজিনে SCO শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে। ভারত অতীতে রাশিয়া-ইউক্রেন নেতৃত্বের মধ্যে বার্তা বিনিময়ে মধ্যস্থতা করেছে বলেও জানা যায়।
জেলেনস্কির এই ফোনালাপ এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন প্রশাসনের সিনিয়র কর্মকর্তারা ভারতের রাশিয়ান জ্বালানি কেনা নিয়ে সমালোচনা করছেন। হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন, ভারত এই তেল ক্রয়ের মাধ্যমে যুদ্ধের অর্থায়নে রাশিয়াকে সাহায্য করছে।
ভারত সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ভাগ করে নিয়েছেন। মোদী ভারতের “অটল ও ধারাবাহিক অবস্থান” পুনর্ব্যক্ত করেছেন—যাতে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান ও যত দ্রুত সম্ভব শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে সমর্থন জানানো হয়েছে।
জেলেনস্কি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেছেন, SCO সম্মেলনের আগে ভারতের সঙ্গে মতামত সমন্বয়ের লক্ষ্যেই তিনি এই ফোনালাপ করেছেন। তিনি বলেন, “এই যুদ্ধের অবসান একটি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি দিয়ে শুরু হওয়া উচিত। আমাদের শহর ও নাগরিকদের উপর নিরন্তর হামলার মধ্যে শান্তি নিয়ে সৎ আলোচনা সম্ভব নয়।”
জেলেনস্কি আরও জানান, ভারত প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা নিতে ও রাশিয়া সহ অন্য নেতাদের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছে দিতে প্রস্তুত। দুই নেতা ভারত-ইউক্রেন অংশীদারিত্বের অগ্রগতি এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা সম্ভাবনাময় এক সম্পর্কের দিকে এগোচ্ছি। খুব শিগগিরই মোদিজির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করার অপেক্ষায় আছি।”
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, SCO সম্মেলনের ফাঁকে এই ত্রিপাক্ষিক কূটনৈতিক তৎপরতা বিশ্ব রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় আনতে পারে। বিশেষত, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত সমাধানে ভারতের সক্রিয় ভূমিকা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে বলে মত বিশ্লেষকদের।




















