কুয়ালালামপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দু’দিনের সফর শুরু হওয়ার (Zakir Naik)ঠিক আগে মালয়েশিয়া পুলিশ একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। জাকির নাইকের অনুসারী এবং বিতর্কিত ইসলামিক প্রচারক মোহাম্মদ জামরি ভিনোথ (যিনি মোহাম্মদ জামরি ভিনোথ কালিমুথু নামেও পরিচিত) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই গ্রেফতার হয়েছে শনিবার সন্ধ্যায়, যখন কুয়ালালামপুরের এসোগো শপিং কমপ্লেক্সের সামনে একটি নির্ধারিত র্যালি ব্যর্থ হয়ে যায়।
র্যালিটি ছিল ‘অবৈধ উপাসনাস্থল’ বিরোধী আন্দোলনের অংশ, যা মূলত হিন্দু মন্দিরগুলোকে লক্ষ্য করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ও সরকারের সতর্কতার কারণে র্যালি হয়নি, এবং জামরি ভিনোথসহ আরও কয়েকজনকে দাঙ্গ ওয়াঙ্গি পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে তাকে ও সহ-আয়োজক তামিম দাহরি আবদুল রাজাককে দু’দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে, সিডিশন অ্যাক্টের অধীনে তদন্ত চলছে।
আরও দেখুন: সারা দেশ থেকে ২২ বাংলাদেশিকে পুশব্যাক করল মোদী সরকার
জামরি ভিনোথ হলেন একজন হিন্দু পরিবারে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি, যিনি পরে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তিনি জাকির নাইকের ঘনিষ্ঠ অনুসারী, যিনি ভারতে অর্থ পাচার ও হেট স্পিচের অভিযোগে পলাতক এবং মালয়েশিয়ায় আশ্রয় পেয়েছেন। জামরি ‘গেরাকান অ্যান্টি রুমাহ আনুতান হারাম’ (অ্যান্টি-ইলিগ্যাল হাউজ অফ ওয়ারশিপ মুভমেন্ট)-এর সমন্বয়ক।
তিনি দাবি করেছিলেন যে মালয়েশিয়ায় অনেক ‘অবৈধ’ মন্দির রয়েছে, যা আইন লঙ্ঘন করে তৈরি হয়েছে। এই ইস্যুতে তিনি ১৪১টি এনজিওর সমর্থন দাবি করেছিলেন এবং র্যালির ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন, কোনও অশান্তি বা জাতিগত উত্তেজনা সহ্য করা হবে না, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময়।
পুলিশের কড়া অবস্থানের কারণে র্যালি বাতিল হয়ে যায় এবং প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট হয়।জামরি ভিনোথের বিরুদ্ধে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভের কারণ তার প্রতিদিনের বক্তব্য। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া ও লেকচারে সনাতন ধর্ম, হিন্দু দেবতা (যেমন লর্ড মুরুগান) এবং মন্দিরের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেন, যা অনেকে হেট স্পিচ বলে মনে করেন। ২০১৯ সাল থেকেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা হচ্ছে।
পুলিশ রেকর্ড অনুসারে, তার বিরুদ্ধে প্রায় ৮৯৪ থেকে ৯০০-এর কাছাকাছি পুলিশ রিপোর্ট দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে হিন্দু ধর্ম অপমানের অভিযোগ প্রধান। পেনাল কোডের সেকশন ২৯৮এ এবং কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া অ্যাক্টের অধীনে মামলা হয়েছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে কোনও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। হিন্দু সম্প্রদায় ও এনজিওগুলো বারবার দাবি করেছে যে তার বক্তব্য জাতিগত সম্প্রীতি নষ্ট করছে, কিন্তু তিনি অব্যাহত রেখেছেন।




















