ওয়াশিংটন: ইউক্রেন সংঘাতের জেরে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে এক নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা বিল আনতে চলেছে মার্কিন সেনেট। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিল পাশ হলে রাশিয়ার পাশাপাশি বড় বিপাকে পড়তে পারে ভারত সহ একাধিক দেশ, যারা বর্তমানে মস্কোর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে সস্তা কাঁচা তেল (Crude Oil) আমদানি করে থাকে।
নতুন এই বিলটির নাম দেওয়া হয়েছে, ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ (Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026)। এর মূল লক্ষ্য, রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ পরিচালনার আর্থিক উৎসগুলিতে কোণঠাসা করা এবং একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সন্ত্রাসবাদে মদত জোগানোর ওপর রাশ টানা।
বিলের প্রধান দিকগুলি
প্রস্তাবিত এই বিলটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এক বিশাল ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কোনো দেশ যদি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাশিয়া থেকে বড় পরিমাণে তেল ও গ্যাস কেনা অব্যাহত রাখে, তবে সেই দেশের আমদানির ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক (Tariffs) আরোপ করার একচ্ছত্র অধিকার পাবেন তিনি।
ভারত ছাড়াও চিন, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কিছু দেশ যারা রুশ শক্তির অন্যতম বড় গ্রাহক, তারা সকলেই এই শুল্কের খাঁড়ার আওতায় পড়তে পারে।
শুল্ক কি স্বয়ংক্রিয়? বিলটি আইন হিসেবে পাস হলেও শুল্ক বসানোটা বাধ্যতামূলক বা স্বয়ংক্রিয় নয়। কবে এবং কোন দেশের ওপর এই শুল্ক কার্যকর করা হবে বা তুলে নেওয়া হবে, তার সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতেই।
ভারতের জন্য কেন এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের রূপ পাল্টে গেছে। এই সুযোগে পশ্চিমী দেশগুলির নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণে ছাড়ে অপরিশোধিত তেল কেনা শুরু করে ভারত। এই সাশ্রয়ী তেল ভারতীয় শোধনাগারগুলির জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি লাভজনক রিফাইনিং মার্জিন বজায় রাখতে সাহায্য করেছে।
ফলে প্রস্তাবিত এই বিলটি যদি ভবিষ্যতে আইনসভায় পাশ হয়ে কার্যকর হয়, তবে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি বাণিজ্য দারুণভাবে ব্যাহত হতে পারে। পাশাপাশি, এর জেরে নতুন দিল্লি ও ওয়াশিংটনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনাতেও জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিলের ভবিষ্যৎ ও প্রতিবন্ধকতা
বর্তমানে বিলটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সেনেটে একটি প্রাথমিক পদ্ধতিগত ভোটাভুটি হওয়ার কথা। তবে আইন হিসেবে রূপ নিতে হলে একে মার্কিন কংগ্রেসের দুটি কক্ষ, সেনেট এবং প্রতিনিধি সভা (House of Representatives), উভয় জায়গাতেই পাশ হতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির সই লাগবে।
যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প এর মধ্যে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা যুক্ত করার শর্তে এই বিলকে সমর্থন জানিয়েছেন, তবুও ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের একাংশের মধ্যে এটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই বিলের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে অতিরিক্ত শুল্কের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে, যা মার্কিন মিত্র দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে এবং মার্কিন গ্রাহকদের ওপর পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে কংগ্রেসে পর্যাপ্ত সমর্থন জোগাড় করতে গিয়ে এই বিলকে বেশ কিছু আইনি ও রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়তে হতে পারে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী ভারত বিরোধী বালেন শাহকে ভারতে ডেকে কূটনীতির বড় চাল মোদীসরকারের
পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গুলি চালানোকে সমর্থন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর





